বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনায় স্বস্তি পেল রপ্তানিমুখী শিল্পখাত। শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মাসের বেতন ও ভাতা পরিশোধে বিশেষ ঋণ সুবিধা পাচ্ছে অন্তত ৮০ শতাংশ রপ্তানি করে—এমন সচল শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক চাপে রপ্তানি কমেছে। অনেক ক্ষেত্রে ক্রয়াদেশ পিছিয়েছে। এতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো তারল্য সংকটে পড়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি হয়েছে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধে। এই প্রেক্ষাপটে উৎপাদন ও রপ্তানির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে বিশেষ এই ঋণ সুবিধা চালু করা হয়েছে।
জারি করা সার্কুলার অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিগত তিন মাসে পরিশোধিত গড় বেতন-ভাতার সমপরিমাণ ঋণ দেওয়া যাবে। তবে এই ঋণ চলতি মূলধন ঋণসীমার বাইরে মেয়াদি ঋণ হিসেবে দিতে হবে। অর্থাৎ এটি বিদ্যমান ঋণসীমার অতিরিক্ত সহায়তা।
ঋণের অর্থ সরাসরি শ্রমিক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাবে পাঠাতে হবে। এর মাধ্যমে অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সুদহার হবে বাজারভিত্তিক প্রচলিত হার অনুযায়ী। নিয়মিত সুদ ছাড়া অতিরিক্ত কোনো সুদ, মুনাফা, ফি বা চার্জ আরোপ করা যাবে না।
পরিশোধের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ঋণ নিতে পারবে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বোচ্চ এক বছরের মধ্যে সমান কিস্তিতে অর্থ পরিশোধ করতে হবে। কিস্তি মাসিক বা ত্রৈমাসিক হতে পারে। থাকবে তিন মাসের গ্রেস পিরিয়ড। তবে এই সুবিধা পেতে হলে সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বিজিএমইএ বা বিকেএমইএর প্রত্যয়নপত্র দ্বারা সমর্থিত হতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

