চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে রাজস্ব ঘাটতি পুষিয়ে নিতে নতুন পদক্ষেপ নিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। মার্চ থেকে জুন—এই চার মাসে ভ্যাট ফাঁকি রোধ ও আদায় বাড়াতে ১০ সদস্যের একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার এনবিআরের ভ্যাট বাস্তবায়ন ও আইটি অনুবিভাগ থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। টাস্কফোর্সটি স্বল্পমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে কাজ করবে।
সূত্র জানায়, রাজস্ব আদায়ে গতি ফেরাতে শুধু ভ্যাট নয়, আয়কর ও কাস্টমস বিভাগেও পৃথক টাস্কফোর্স গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। লক্ষ্য একটাই—ঘাটতি কমিয়ে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন।
টাস্কফোর্সের দায়িত্ব কী
গঠিত টিমের কার্যপরিধি বিস্তৃত। রাজস্ব আহরণ বাড়াতে সর্বাত্মক তৎপরতা ও নিয়মিত মনিটরিং থাকবে অগ্রাধিকার তালিকায়। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপের জন্য সময়সীমাবদ্ধ পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। অর্থনৈতিক গণতান্ত্রয়ন ও টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বিবেচনায় রেখে আসন্ন বাজেট এবং ভবিষ্যতের স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি করনীতি নিয়েও সুস্পষ্ট রূপরেখা প্রণয়ন করবে টিমটি।
এ ছাড়া করনেট সম্প্রসারণ, ঋণাত্মক খাতকে ইতিবাচক ধারায় আনা, বকেয়া আদায় নিশ্চিত করা এবং চলমান মামলা ও অডিট দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়েও কাজ করবে তারা।
নেতৃত্বে কারা
কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট ঢাকা (উত্তর)-এর কমিশনার মো. সামছুল ইসলামকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। সদস্য সচিবের দায়িত্বে রয়েছেন ভ্যাট বাস্তবায়ন (পণ্য ও সেবা)-এর প্রথম সচিব রুহুল আমিন।
সদস্য হিসেবে আছেন—ঢাকা (পশ্চিম) কমিশনারেটের কমিশনার কাজী ফরিদ উদ্দিন, ভ্যাট পরিবীক্ষণ ও করদাতা সেবার প্রথম সচিব নাহিদ নওশাদ মুকুল, ভ্যাট নীতির প্রথম সচিব মশিউর রহমান, গাজীপুর কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার রাকিবুল হাসান, ঢাকা (দক্ষিণ) কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার রেজভী আহমেদ, কাস্টমস আধুনিকায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক কাজী রেজাউল হাসান, নিরীক্ষা গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (ভ্যাট)-এর উপ-কমিশনার ইমাম গাজ্জালী এবং ভ্যাট করদাতা সেবার দ্বিতীয় সচিব প্রণয় চাকমা।
কেন এই উদ্যোগ
চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। জুলাই ’২৫ থেকে জানুয়ারি ’২৬ পর্যন্ত সময়ে ২ লাখ ৮৩ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা। ঘাটতির পরিমাণ ৬০ হাজার কোটি টাকা।
এই বাস্তবতায় অর্থবছরের শেষ চার মাসকে সামনে রেখে ভ্যাট ফাঁকি রোধ ও আদায় জোরদার করাই এখন এনবিআরের প্রধান চ্যালেঞ্জ। নতুন টাস্কফোর্স সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

