পবিত্র রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে এসে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে সয়াবিন তেল, চিনি এবং ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে ভোক্তাদের ওপর নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।
তবে একই সময়ে কিছু পণ্যের দাম কিছুটা কমতেও দেখা গেছে। চাল, মসুর ডাল ও পেঁয়াজের দাম তুলনামূলকভাবে কমেছে। অন্যদিকে বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাওরানবাজার, শান্তিনগর এবং তুরাগ এলাকার নতুন বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এই চিত্র পাওয়া গেছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, বর্তমানে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধ আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দামের ওঠানামা তৈরি করেছে। এর প্রভাব ধীরে ধীরে স্থানীয় বাজারেও পড়ছে।
এছাড়া রমজানের মাঝামাঝি সময়ে অনেক পরিবার ঈদকে সামনে রেখে বাড়তি কেনাকাটা শুরু করেছে, ফলে কিছু পণ্যের চাহিদা বেড়ে গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ তুলনামূলক কম। ডিলার পর্যায়ে দাম কিছুটা বাড়লেও খুচরা পর্যায়ে বোতলজাত তেলের দাম এখনও বাড়েনি।
তবে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে।
বর্তমানে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে গত সপ্তাহে দাম ছিল ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন খুচরা ব্যবসায়ী জানান, ঈদের আগে তেল কোম্পানিগুলো দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বাজারে আলোচনা রয়েছে। এজন্য বোতলজাত তেলের সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
তাদের মতে, সরকার এখনই নজরদারি না বাড়ালে ঈদের আগে সয়াবিন তেল নিয়ে বাজারে সংকট দেখা দিতে পারে।
বাজারে ব্রয়লার ও সোনালি জাতের মুরগির দামও বেড়েছে।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ১৫ টাকা বেড়ে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা হয়েছে।
শান্তিনগর বাজারের মুরগি বিক্রেতা আমিনুর বলেন, রমজানের শুরুতে মুরগির চাহিদা কমে যাওয়ায় দাম কিছুটা নেমে গিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে আবার চাহিদা বেড়েছে।
তার ভাষায়,
“ঈদের আগে মুরগির দাম কমার সম্ভাবনা খুব কম।”
রমজান শুরু হওয়ার পর থেকে চিনির দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও এখন কিছুটা বেড়েছে।
বর্তমানে খোলা চিনি কেজিতে ২ টাকা বেড়ে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর বাজারদর প্রতিবেদনে এই দাম বৃদ্ধির তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এসব পণ্যের দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এখনও কম।
গত বছর এই সময়ে
-
ব্রয়লার মুরগি ছিল ১৯০ থেকে ২১০ টাকা কেজি
-
চিনি ছিল ১২০ থেকে ১২৫ টাকা কেজি
মুরগির দাম বাড়লেও ডিমের বাজারে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। বর্তমানে ডিমের দাম কিছুটা কমেছে।
বর্তমানে বাজারে
-
ফার্মের সাদা ডিম প্রতি ডজন ৯০ থেকে ৯৫ টাকা
-
বাদামি ডিম ১০৫ থেকে ১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে খামারি পর্যায়ে ডিমের দাম আরও কম।
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার বরকতপুর এলাকার আলম লেয়ার ফার্মের মালিক আলম মণ্ডল জানান, তারা খামার থেকে প্রতি ডজন
-
সাদা ডিম ৬৬ টাকা
-
বাদামি ডিম ৭৮ টাকা দরে বিক্রি করছেন।
তার মতে, এই দামে ডিম বিক্রি করতে গিয়ে খামারিরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়ছেন।
সব মিলিয়ে রমজানের মাঝামাঝি সময়ে রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের দামে মিশ্র প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কিছু পণ্যের দাম বাড়লেও আবার কিছু পণ্যের দাম কমেছে।
তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে বাজারে চাহিদা আরও বাড়বে, ফলে কিছু পণ্যের দাম আবারও বাড়তে পারে।

