জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর ফাঁকি রোধ এবং আয়কর নির্ধারণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে। এখন থেকে করদাতাদের আমদানিকৃত পণ্যের প্রকৃত মূল্য এবং আমদানির সময় পরিশোধিত অগ্রিম আয়করের তথ্য যাচাই করা বাধ্যতামূলক হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এই যাচাই করতে কাস্টমসের ‘অ্যাসাইকুডা সিস্টেমের’ বিজনেস ইন্টেলিজেন্স (বিআই) সার্ভারের তথ্য ব্যবহার করতে হবে। গতআল বৃহস্পতিবার এনবিআরের আয়কর অনুবিভাগের অধীনে থাকা কর অঞ্চলগুলোর জন্য এই আদেশ জারি করা হয়েছে।
এনবিআরের নির্দেশনায় কর মামলা অডিটের জন্য নির্বাচন, কর মামলা পুনঃউন্মোচন অনুমোদন বা ত্রুটিপূর্ণ করাদেশ সংশোধনের ক্ষেত্রে রেঞ্জ কর্মকর্তারা সরাসরি এই সার্ভার থেকে তথ্য সংগ্রহ করবেন। করদাতা যদি আমদানিকারক হন, তবে তার আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য ও অগ্রিম আয়করের তথ্য লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট সার্কেল কর্মকর্তাকে জানাতে হবে।
বর্তমানে কর কমিশনার এবং পরিদর্শী রেঞ্জ কর্মকর্তারা নির্ধারিত কম্পিউটার থেকে সার্ভারে লগইন করতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে কর নির্ধারণী কর্মকর্তাদের সরাসরি এই সুবিধা না দিয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সংগৃহীত তথ্য নিয়মিত নির্দিষ্ট রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ রাখতে হবে।
এনবিআরের ধারণা, এই উদ্যোগের ফলে করদাতার আমদানিকৃত পণ্যের পরিমাণ, মূল্য এবং অগ্রিম আয়করের প্রকৃত তথ্য সহজেই যাচাই করা যাবে। ফলে অগ্রিম আয়কর ‘ক্রেডিট’ দেওয়া হবে স্বচ্ছ ও নির্ভুল প্রক্রিয়ায়। পাশাপাশি, কর ফাঁকি রোধের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাবে এবং আয়কর ফেরত প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সহজ হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আশা করছে, এই উদ্যোগ কাস্টমস ও আয়কর বিভাগের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের নতুন দিক খুলে দেবে। সফল হলে, কর নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যবসায়ীদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি কমবে।

