Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice রবি, মার্চ 8, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » অর্থনৈতিক উত্তরণে প্রয়োজন নীতি ও সাহসের সমন্বয়
    অর্থনীতি

    অর্থনৈতিক উত্তরণে প্রয়োজন নীতি ও সাহসের সমন্বয়

    এফ. আর. ইমরানমার্চ 7, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বাংলাদেশ বর্তমানে এক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে। ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে অগ্রসরমান এই রাষ্ট্রের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্জিত প্রবৃদ্ধিকে কীভাবে টেকসই, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো যায়। এ উত্তরণ কেবল আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির বিষয় নয়; বরং এটি নির্ভর করছে কার্যকর অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়ন, সামষ্টিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সময়োপযোগী সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর।

    গত এক দশকে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। কোভিড-১৯ মহামারির অভিঘাত সত্ত্বেও ডিজিটাল সেবার বিস্তার, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ এবং রপ্তানি খাতে স্থিতিশীলতা অর্থনীতিকে টিকিয়ে রেখেছে। তবে বর্তমান বাস্তবতা স্পষ্ট করে দিচ্ছে আমরা এখনও ‘সমস্যামুক্ত অর্থনীতি’র স্তরে পৌঁছাইনি। এখন প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল কাঠামো নির্মাণ, যেখানে সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য, রাজস্ব ও মুদ্রানীতির সমন্বয় এবং কাঠামোগত সংস্কার একযোগে অগ্রসর হবে। টেকসই পুনরুদ্ধারের জন্য দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাজারে আস্থা পুনর্গঠন অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি উৎপাদনশীল খাতকে শক্তিশালী করার সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে।

    পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪.৫০ শতাংশে অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ সম্প্রসারণ ঘটেছে। তবে সিপিডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে সামগ্রিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৪৯ শতাংশে নেমে আসে, যেখানে আগের অর্থবছরে তা ছিল ৪.২ শতাংশ। শিল্প ও সেবা খাতে ভোগব্যয় হ্রাস এবং নতুন বিনিয়োগে অনীহা এই মন্থরতার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ। পরবর্তী সময়ে কিছু পুনরুদ্ধার দেখা গেলেও খাতভিত্তিক চিত্রে বৈচিত্র্য লক্ষণীয়। ২০২৬ অর্থবছরের জুলাই–সেপ্টেম্বর সময়ে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৬ দশমিক ৯৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ। পরিষেবা খাত যা অর্থনীতিতে অর্ধেকেরও বেশি অবদান রাখে, ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে; আগের বছরে একই সময়ে ছিল ২ দশমিক ৯৬ শতাংশ। অন্যদিকে কৃষি খাত তুলনামূলক ধীর গতিতে এগিয়েছে; ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এ খাতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৩০ শতাংশে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি হলেও কাঙ্ক্ষিত গতির নিচে।

    পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) ভাইস চেয়ারম্যান ড. সাদিক আহমেদের মতে, ২০২৫ সালে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ৩.৫ শতাংশে নেমে এসেছে; দারিদ্র্যের হার বাড়ছে; শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব ১০ শতাংশ ছাড়িয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি প্রায় ৮.৫ শতাংশে অবস্থান করছে—যেখানে বৈশ্বিক গড় ২–৩ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা, যা অর্থনীতির জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করছে।

    এই বাস্তবতায় নীতিগত দৃঢ়তা ও সাহসিকতাপূর্ণ কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া সামনে এগোনোর বিকল্প নেই। সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, রাজস্ব ও মুদ্রানীতির কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলাই হতে পারে টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকও আর্থিক শৃঙ্খলা, কর্মসংস্থানমুখী প্রবৃদ্ধি এবং কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করছে; যা বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

    অতএব মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, কর ও রাজস্ব কাঠামোর সংস্কার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিমুখী বিনিয়োগ বৃদ্ধির মতো কঠিন কিন্তু জরুরি সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। নীতি ও সাহসের এই সমন্বয়ই পারে অর্থনীতিতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে, সুশাসনকে শক্তিশালী করতে এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির পথ সুদৃঢ় করতে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উত্তরণ তাই কেবল পরিসংখ্যানের অগ্রগতি নয়—এটি নীতিগত প্রজ্ঞা, নেতৃত্বের দৃঢ়তা এবং সময়োপযোগী সাহসের এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

    বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট কেবল পরিসংখ্যানের সংকোচন বা প্রবৃদ্ধির হার কমে যাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর গভীরে রয়েছে আস্থাহীনতা, নীতিগত দুর্বলতা এবং কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার জটিল সমন্বয়। উচ্চ মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে ক্ষয় করছে। একই সঙ্গে শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব বৃদ্ধি, আয় বৈষম্যের বিস্তার এবং প্রবাসী আয়ের প্রবাহে ওঠানামা সামষ্টিক অর্থনীতিকে অস্থির করে তুলেছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেবল স্বল্পমেয়াদি সমাধান যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সুসংহত ও দৃঢ় নীতি বাস্তবায়ন।

    সরকার ইতোমধ্যে স্বল্পমেয়াদি অর্থনৈতিক সংকট নিরসন কর্মসূচি প্রণয়ন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের সঙ্গে নীতির সামঞ্জস্য স্থাপন এবং রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেছে। তবে বাস্তবতা হলো—নীতিপত্র প্রণয়ন আর কার্যকর বাস্তবায়নের মধ্যে এখনো বড় ফাঁক রয়ে গেছে। বাজেট প্রণয়নে স্বচ্ছতা, ব্যয়ের দক্ষতা এবং উন্নয়ন প্রকল্পের জবাবদিহিতা আরও জোরদার না হলে কাঙ্ক্ষিত ফল মিলবে না। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের আয় বৃদ্ধির স্থিতিস্থাপকতা না বাড়লে বাজারে চাহিদা পুনরুদ্ধারও টেকসই হবে না।

    ঢাকায় আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও দ্য ডেইলি স্টার-এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আলোচনায় সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন নবনির্বাচিত সরকারের জন্য সমন্বিত নীতিগত অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। তাঁর মতে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে কাঠামোগত সংস্কারের বিকল্প নেই। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়টি নীতিগত পুনঃসমন্বয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সন্ধিক্ষণ। স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে টেকসই সামষ্টিক শৃঙ্খলা গড়ে তুলতেই হবে।

    ড. ফাহমিদা খাতুনের বিশ্লেষণে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার পেছনে কয়েকটি বড় কারণ চিহ্নিত হয়েছে—দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সীমিত রাজস্ব পরিসর, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, মুদ্রা খাতে ঝুঁকি, উচ্চ ঋণভার, জ্বালানি খাতে চাপ এবং রূপান্তরকালীন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। বিশেষত রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত তুলনামূলকভাবে নিম্ন পর্যায়ে থাকায় সরকার প্রয়োজনীয় সামাজিক সুরক্ষা ও উন্নয়ন ব্যয় নির্বাহে সংকটে পড়ছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের চাপ এবং বিনিময় হার ব্যবস্থাপনায় অস্থিরতা আর্থিক খাতকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

    এ পরিস্থিতিতে নীতির সাহসী পুনর্গঠন অপরিহার্য। কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন, আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা, জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বেসরকারি বিনিয়োগের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আরও লক্ষ্যভিত্তিক ও কার্যকর করা প্রয়োজন, যাতে মূল্যস্ফীতির অভিঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী সুরক্ষা পায়।

    অর্থনৈতিক উত্তরণের পথে তাই শুধু প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি নয়; বরং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, নীতির ধারাবাহিকতা এবং জবাবদিহিতামূলক শাসন কাঠামো প্রতিষ্ঠাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। নীতি ও বাস্তবায়নের এই ফাঁক দূর করতে পারলেই সামষ্টিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে এবং বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যেতে পারবে।

    নীতির ধারাবাহিকতা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উত্তরণের মূল ভিত্তি। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যবসায়িক পরিবেশ স্থিতিশীল রাখা এবং বাজারের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য স্বচ্ছ, ধারাবাহিক এবং ব্যবসা-বান্ধব নীতি গ্রহণ জরুরি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া যেমন নির্বাচন, এই স্থিতিশীলতার ভিত্তি তৈরি করে এবং বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।

    অর্থনৈতিক উত্তরণের পথে শুধু নীতি প্রণয়নই যথেষ্ট নয়; নীতি বাস্তবায়নে সাহস, ধারাবাহিকতা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সমান গুরুত্বপূর্ণ। কাঠামোগত দুর্বলতা ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সুশাসন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে ব্যাংকিং ও রাজস্ব খাতের সংস্কার, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদী রোডম্যাপ বাস্তবায়ন সহজ হয়। স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার মূল চাবিকাঠি।

    অর্থনৈতিক উত্তরণের মূল চাবিকাঠি হলো নীতি ও সাহসের সুষম সমন্বয়। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, খেলাপি ঋণ হ্রাস এবং অর্থপাচার রোধের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সাহসী নেতৃত্ব প্রয়োজন। সরকারের নীতি ধারাবাহিকভাবে প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করলে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার স্থায়িত্ব নিশ্চিত হয়, যা বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।

    রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। ব্যাংকিং খাত, কর কাঠামো এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। একই সঙ্গে মুদ্রা ও রাজস্ব নীতির সমন্বয় ঘটিয়ে সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখা, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানো এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য সাহসী সংস্কার গ্রহণ করতে হবে।

    দেশীয় শিল্প, উৎপাদন খাত এবং এসএমই খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিও গুরুত্বপূর্ণ। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অংশগ্রহণমূলক নীতি প্রণয়ন ব্যবসায়িক আস্থা পুনঃস্থাপন করবে। তদুপরি, সংকট মোকাবিলায় জাতীয়ভাবে অন্তর্বর্তীকালীন ও অংশগ্রহণমূলক নীতি গ্রহণ করাও অপরিহার্য।

    এই সব উদ্যোগ কার্যকর করতে প্রশাসনিক দৃঢ়তা, নীতিগত ধারাবাহিকতা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা জরুরি। সঠিক পরিকল্পনা ও সাহসী বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্রুত অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে টেকসই এবং প্রতিযোগিতামূলক প্রবৃদ্ধির পথে এগোতে পারবে।

    বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উত্তরণ কেবল প্রবৃদ্ধির হার বা সংখ্যাগত অগ্রগতির উপর নির্ভর করে না; এটি নির্ভর করে সঠিক নীতি, ধারাবাহিক বাস্তবায়ন এবং সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে দেশকে স্থিতিশীল ও টেকসই অর্থনৈতিক পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। নীতি ও সাহসের এই সমন্বয় শুধু বর্তমান সংকট কাটাতে সাহায্য করবে না; বরং সুশাসন, আস্থা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পথও সুদৃঢ় করবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রশাসনিক দৃঢ়তার সঙ্গে এগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলেই বাংলাদেশ দ্রুত অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ পার হয়ে টেকসই সমৃদ্ধির দিকে এগোতে পারবে।

    নীতি ও সাহসের সমন্বয় শুধু কাঠামোগত সংস্কার বা সুশাসনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে বাস্তব বাজেট ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনাও জড়িয়ে আছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার নতুন পে স্কেল, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডসহ নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া জনবান্ধব প্রতিশ্রুতি পূরণের কাজ ইতোমধ্যেই শুরু করেছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য বিপুল অর্থ প্রয়োজন, যা বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা, রাজস্ব সংগ্রহে ধীরগতি এবং আইএমএফের শর্ত পূরণের চাপ বাজেট প্রণয়নকে জটিল করেছে।

    অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের পরিমাণ ৮ লাখ ৪৮ হাজার কোটি থেকে সাড়ে ৮ লাখ কোটি টাকার মধ্যে হতে পারে, যেখানে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকার মধ্যে ধারণা করা হচ্ছে। তুলনামূলকভাবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেট ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা পরে ২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকায় সংশোধিত হয়। এই বাজেট এবং জনবান্ধব উদ্যোগের বাস্তবায়নই হতে পারে নীতিগত সাহস ও কার্যকর পরিকল্পনার প্রমাণ, যা দেশের অর্থনৈতিক উত্তরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অর্থনীতি

    দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ জ্বালানি তেলের দাম, কাতারে উৎপাদন বন্ধের শঙ্কা

    মার্চ 7, 2026
    অর্থনীতি

    দেশি “হালি পেঁয়াজে” বাজারে নতুন স্বস্তি

    মার্চ 7, 2026
    অর্থনীতি

    ঢাকা ওয়াসার পানির দাম বৃদ্ধি করায় গ্রাহকদের ক্ষোভ

    মার্চ 7, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, জামানত ছাড়াই মিলবে টাকা

    ব্যাংক জানুয়ারি 10, 2026

    যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন বেলাল হোসেন

    ব্যাংক অক্টোবর 30, 2025

    এক দিনেই ৩–৪ লাখ টাকা ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা

    ব্যাংক ডিসেম্বর 17, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsAppp

    01339-517418

    Copyright © 2025 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.