মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। বিশেষ করে ডলার বাজার, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম নীতিগত প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।
গতকাল শনিবার ছুটির দিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান আটজন অর্থনীতিবিদের সঙ্গে এই বৈঠক করেন। অর্থনীতিবিদরা বর্তমান বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ বা রিজার্ভ ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মত দেন তাঁরা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশ যেহেতু জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ, তাই এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর। এতে ডলারের ওপর চাপ বাড়তে পারে এবং রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
তাঁরা বলেন, এই পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত রিজার্ভ ব্যবহারে আরও সতর্ক ও পরিকল্পিত নীতি অনুসরণ করা। অপ্রয়োজনীয় আমদানি কমানো, রপ্তানি আয় বাড়ানো এবং প্রবাসী আয়ের প্রবাহ স্থিতিশীল রাখার মতো পদক্ষেপগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া দরকার।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সম্ভাব্য বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ধরে রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এজন্য শিল্পখাতে সহায়ক নীতি, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ এবং জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষার পাশাপাশি উৎপাদন ও বিনিয়োগ কার্যক্রম সচল রাখতে সমন্বিত অর্থনৈতিক কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন। এতে করে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব তুলনামূলকভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

