Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice সোম, মার্চ 9, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » বিএফআইইউর স্বাধীনতা কোথায় হারিয়েছে পথ?
    অর্থনীতি

    বিএফআইইউর স্বাধীনতা কোথায় হারিয়েছে পথ?

    মনিরুজ্জামানমার্চ 9, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বাংলাদেশে অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। প্রায় দুই দশকের বেশি সময় আগে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটি দেশের আর্থিক খাতের সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত ও বিশ্লেষণের দায়িত্বে রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কার্যকরভাবে অর্থপাচার রোধ করতে হলে সংস্থাটির সক্ষমতা ও বাস্তব স্বাধীনতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

    বর্তমানে বিএফআইইউ স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত হলেও এটি এখনও অনেকাংশে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রশাসনিক বলয়ের মধ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, কাগুজে স্বায়ত্তশাসন যথেষ্ট নয়। বাস্তবে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ ও কাঠামোগত শক্তি না বাড়ালে অর্থপাচার প্রতিরোধে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হবে।

    তথ্য অনুযায়ী, ২০০২ সালের জুন মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে ‘এন্টি মানি লন্ডারিং ডিপার্টমেন্ট (এএমএল)’ নামে প্রথম এই ইউনিট গঠিত হয়। তখন মূল লক্ষ্য ছিল ব্যাংকিং খাতে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন শনাক্ত করা এবং অর্থপাচার সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক অপরাধের ধরন ও পরিধি বাড়তে থাকায় সংস্থাটির কাঠামো ও দায়িত্বও সম্প্রসারণের প্রয়োজন দেখা দেয়।

    এই প্রেক্ষাপটে ২০১২ সালে একটি আইনের মাধ্যমে এন্টি মানি লন্ডারিং ডিপার্টমেন্টের নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) করা হয়। নতুন কাঠামোর উদ্দেশ্য ছিল সংস্থাটির কার্যক্রমকে আরও স্বাধীন ও কার্যকর করা। এরপর ২০১৫ সালের ১১ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির জারি করা এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ সংশোধন করা হয়। একই বছরের ২৬ নভেম্বর সংশোধিত অধ্যাদেশটি সংসদে আইনে পরিণত হয়। সংশোধিত আইনের আওতায় বিএফআইইউকে আনুষ্ঠানিকভাবে আরও শক্তিশালী কাঠামোর মধ্যে আনা হয়।

    বিএফআইইউর প্রধান কাজ হলো দেশের আর্থিক খাতে সংঘটিত সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করা, তা বিশ্লেষণ করা এবং যদি মানি লন্ডারিং বা সন্ত্রাসে অর্থায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সেই তথ্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে পাঠানো। সাধারণত এসব তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সিআইডিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়, যাতে তারা প্রয়োজনীয় তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে।

    এছাড়া আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও বিএফআইইউর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের অংশ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়ে সংঘটিত আর্থিক অপরাধের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়। এতে বৈশ্বিক পর্যায়ে অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার হয়।

    অর্থপাচারের ঝুঁকি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। তাই শুধু তথ্য সংগ্রহ বা বিশ্লেষণই যথেষ্ট নয়। সংস্থাটির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, মানবসম্পদ এবং স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়াতে পারলে অর্থপাচার প্রতিরোধে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে আর্থিক খাতের সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করাও জরুরি।

    বাংলাদেশে অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। তবে সংস্থাটির স্বাধীনতা, প্রশাসনিক কাঠামো এবং কার্যকারিতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনি কাঠামোয় স্বতন্ত্র হলেও বাস্তবে এখনও এটি অনেকটাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রভাব বলয়ে পরিচালিত হচ্ছে।

    আইন অনুযায়ী বিএফআইইউ একটি কেন্দ্রীয় আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা। তবে সংস্থাটির কার্যালয় অবস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরেই। অফিস পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় স্থান, জনবল, তহবিল ও প্রশাসনিক সহায়তা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সংস্থাটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সাধারণত দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিকভাবে এই পদে নিয়োগ দিয়ে থাকে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এই ব্যবস্থার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বেতন-ভাতা ও প্রশাসনিক খরচসহ নানা ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চাপ বহন করতে হচ্ছে।

    অন্যদিকে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে কাজ করা সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) মনে করে, ধারণাগত ভিত্তি এবং আন্তর্জাতিক চর্চা অনুযায়ী বিএফআইইউকে পুরোপুরি স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, একটি আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে বিএফআইইউর উচিত ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রভাব থেকেও সম্পূর্ণ মুক্ত থাকা। তা না হলে সংস্থাটি তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারবে না।

    তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিএফআইইউকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্তৃত্বাধীন অবস্থায় রাখা হয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব অতীতে ব্যাংক খাতের লুটপাট ও অর্থপাচার রোধে ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে দেখা গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠনের যে অঙ্গীকার নতুন সরকার করেছে, তার অংশ হিসেবে বিএফআইইউকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রভাবমুক্ত করে পূর্ণ স্বাধীন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা উচিত।

    তবে এ বিষয়ে ভিন্ন মতও রয়েছে। আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে বিএফআইইউর কার্যালয় থাকলে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ দ্রুত করা সহজ হয়—এমন দাবি দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত। কারণ ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা কোম্পানি, মানিচেঞ্জার, স্টক এক্সচেঞ্জ, রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠান সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য বিএফআইইউকে জানাতে বাধ্য।

    তবে একই কাঠামোর কারণে সংস্থাটির স্বাধীনভাবে কাজ করার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্নও উঠছে। তদন্তের অংশ হিসেবে বিএফআইইউ সাধারণত ব্যাংক হিসাবের নথি, তহবিল স্থানান্তরের রেকর্ড, স্থাবর সম্পদের তথ্য, বিমা চুক্তি, ব্রোকারেজ হিসাব এবং অন্যান্য আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য অপরাধের সূত্র অনুসন্ধান করে।

    সংস্থাটির কার্যকারিতা বাড়াতে হলে বিভিন্ন সরকারি ডেটাবেসে সরাসরি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি উন্নত সফটওয়্যার ব্যবহার, আধুনিক প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী তদন্ত সক্ষমতা বাড়ানো গেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীলতা অনেকটাই কমে আসবে।

    প্রশাসনিক কাঠামোও বিএফআইইউর স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনার অন্যতম কারণ। সংস্থাটির প্রধান কর্মকর্তা ডেপুটি গভর্নর পদমর্যাদার হলেও প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পূর্বানুমোদন নিতে হয়। প্রধান কর্মকর্তার অধীনে একজন নির্বাহী পরিচালক দায়িত্ব পালন করেন। তার অধীনে দুজন পরিচালক কাজ করেন।

    পরিচালকদের তত্ত্বাবধানে আটজন অতিরিক্ত পরিচালক রয়েছেন। তারা প্রশাসন, নীতি প্রণয়ন, বিশ্লেষণ, পর্যবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধান, অভিযোগ তদারকি এবং তথ্য বিনিময় সংক্রান্ত কাজ দেখভাল করেন। তবে নীতিনির্ধারণী অনেক ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন হয় এবং নিয়োগ ও পদায়নের বিষয়গুলোও বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অতীতে কখনও কখনও গভর্নরদের প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্র হিসেবেও বিএফআইইউকে ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা স্বাধীনভাবে তদন্ত পরিচালনার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    আর্থিক অপরাধ প্রতিরোধে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর গোয়েন্দা সংস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আইনি স্বীকৃতির পাশাপাশি বাস্তবিক স্বাধীনতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে বিএফআইইউ দেশের অর্থপাচার প্রতিরোধ ব্যবস্থায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

    অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে. মুজেরী মনে করেন, কোনো সংস্থার অফিস কোথায় অবস্থিত সেটি মুখ্য বিষয় নয়; বরং গুরুত্বপূর্ণ হলো সংস্থাটি কতটা কার্যকরভাবে তার দায়িত্ব পালন করতে পারছে। তিনি বলেন, একসময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর একটি অফিস ছিল। বর্তমানে সেখানে বিএফআইইউর অফিস রয়েছে। তবে কোথায় অফিস রয়েছে তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সংস্থাটির কাজের ফলাফল।

    তার মতে, বিএফআইইউর কার্যকারিতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে দেখতে হবে তারা কতটা দায়িত্ব পালন করতে পেরেছে এবং সময়ের সঙ্গে তাদের সক্ষমতা কতটা বেড়েছে। একই সঙ্গে দক্ষ জনবল দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে কি না, সংস্থাটির দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেয়েছে কি না—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে উন্নতি ঘটলেই বিএফআইইউর প্রকৃত সক্ষমতা প্রতিফলিত হবে।

    অর্থপাচার সাধারণত সীমান্ত অতিক্রম করে সংঘটিত হয় এবং এতে জটিল আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অবৈধ অর্থের উৎস আড়াল করা হয়। অপরাধীরা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, তহবিল স্থানান্তর, স্থাবর সম্পদ ক্রয়, বিমা পলিসি গ্রহণ কিংবা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থের প্রকৃত উৎস গোপন করার চেষ্টা করে। এসব লেনদেনের মধ্যে লুকিয়ে থাকা অপরাধ শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। এজন্য প্রয়োজন উন্নত প্রযুক্তি এবং দক্ষ বিশ্লেষণ ক্ষমতা।

    আর্থিক অপরাধীরা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি আধুনিক কৌশল ব্যবহার করছে। ফলে প্রচলিত তদন্ত পদ্ধতিতে এসব অপরাধ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে উঠছে। তাই বিএফআইইউকে শক্তিশালী করতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং বিস্তৃত তথ্যভান্ডারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সব অস্বাভাবিক লেনদেনই যে অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত তা নয়। আবার অনেক সময় সাধারণ লেনদেনের মধ্যেও বড় ধরনের অর্থপাচারের সূত্র লুকিয়ে থাকতে পারে। এ কারণে উন্নত বিশ্লেষণ ব্যবস্থা ছাড়া এসব শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বিএফআইইউ একটি স্বাধীন সংস্থা এবং তারা সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে। তার মতে, এখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো প্রভাব নেই। বরং সংস্থাটির কার্যক্রম পরিচালনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অফিস ও জনবল ব্যবহার হওয়ায় অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারের প্রয়োজন হলে বিএফআইইউকে অন্যত্র স্থানান্তর করে কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে। বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।

    অন্যদিকে, বিএফআইইউর প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন বলেন, নতুন দায়িত্ব, অগ্রাধিকার ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংস্থাটির যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে। তিনি এ দায়িত্বকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, রাষ্ট্র যে আস্থা রেখেছে তা তিনি বড় দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, অর্থপাচার প্রতিরোধ এখন শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে কাজ করতে চান তিনি।

    বিএফআইইউর প্রধান আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের পর যে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, সেখানে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে অর্থপাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তার মতে, দেশের সম্পদ কোনোভাবেই বিদেশে পাচার হতে দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট একটি শক্তিশালী ও আইনসম্মত কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত সংস্থা। তাই নতুন আইন করার প্রয়োজন নেই; বিদ্যমান আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

    বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচার নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে উদ্বেগ রয়েছে, তা দূর করতে বিএফআইইউর দৃশ্যমান ও কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শক্তিশালী তদন্ত, স্বচ্ছ কার্যক্রম এবং দৃশ্যমান ফলাফল দেখাতে পারলেই সংস্থাটি জনআস্থা অর্জন করতে পারবে।

    তাদের মতে, অর্থপাচার এখন আন্তর্জাতিক ও দ্রুত পরিবর্তনশীল একটি অপরাধ। তাই প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি, তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী তদন্ত পরিচালনার ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তদন্তের অগ্রগতি ও ফলাফল স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করতে পারলে অর্থপাচার প্রতিরোধে সংস্থাটির সক্ষমতা আরও স্পষ্টভাবে সামনে আসবে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অর্থনীতি

    উৎপাদন খাত স্থিতিশীল, নির্মাণ খাত এখনও সংকোচনে

    মার্চ 9, 2026
    অর্থনীতি

    বেপজা ইকোনমিক জোনে ১৫.৩৪ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ

    মার্চ 9, 2026
    অর্থনীতি

    মূল্যস্ফীতি ফের ৯ শতাংশের ঘরে

    মার্চ 9, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, জামানত ছাড়াই মিলবে টাকা

    ব্যাংক জানুয়ারি 10, 2026

    যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন বেলাল হোসেন

    ব্যাংক অক্টোবর 30, 2025

    এক দিনেই ৩–৪ লাখ টাকা ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা

    ব্যাংক ডিসেম্বর 17, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsAppp

    01339-517418

    Copyright © 2025 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.