গত আট মাসের বিরতির পর আবারও ৯ শতাংশের ঘরে পৌঁছেছে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সম্প্রতি প্রকাশিত ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯.১৩ শতাংশ। এর আগে গত বছরের মে মাসে ৯ শতাংশের ওপরে মূল্যস্ফীতি রেকর্ড হয়।
গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি দেখা গেছে ফেব্রুয়ারিতে। তবে, এক বছরের ব্যবধানে সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি ছিল গত বছরের এপ্রিলে, যখন এই হার ছিল ৯.১৭ শতাংশ। ফেব্রুয়ারির সঙ্গে টানা চার মাস মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে।
বিবিএসের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, কয়েক মাসের কমানোর পর গত বছরের নভেম্বর থেকে মূল্যস্ফীতি পুনরায় বাড়তে শুরু করে। অক্টোবর মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.১৭ শতাংশ, যা নভেম্বর মাসে বেড়ে দাঁড়ায় ৮.২৯ শতাংশ। ডিসেম্বর মাসে তা আরও বেড়ে হয় ৮.৪৯ শতাংশ এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে দাঁড়ায় ৮.৫৮ শতাংশ।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “টানা চার মাস মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি প্রমাণ করে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি দিয়ে একা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং সুষ্ঠু তদারকির ঘাটতি এ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।”
বিবিএস প্রতি মাসে মাঠ পর্যায় থেকে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার দামের তথ্য সংগ্রহ করে ভোক্তা মূল্যসূচক প্রণয়ন করে। পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি হিসাব করা হয়, যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় দামের পরিবর্তনের শতকরা হার। এ ছাড়াও বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি নির্ণয় করা হয় ১২ মাসের গড়ের ওপর ভিত্তি করে।
মূল্যস্ফীতি নির্ণয় পদ্ধতিতে তিন বছর আগে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন ২০২১-২২ অর্থবছরকে ভিত্তি বছর ধরে হিসাব করা হচ্ছে। ভোক্তা মূল্যসূচকে ৭৪৯ ধরনের ৩৮৩ আইটেম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মদ, সিগারেট, বেভারেজ, মাদকদ্রব্য, সন্তানের শিক্ষা, পরিবারের ইন্টারনেট খরচ, রেস্টুরেন্ট ও হোটেল খাবারের খরচসহ বিভিন্ন খাতের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
বিবিএসের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফেব্রুয়ারিতে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯.৩০ শতাংশ, যা জানুয়ারিতে ছিল ৮.২৯ শতাংশ। গত বছরের জানুয়ারিতে এই হার ছিল ৯.২৪ শতাংশ। অন্যদিকে, খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি ক্রমেই কমছে। ফেব্রুয়ারিতে এই হার দাঁড়িয়েছে ৯.০১ শতাংশ, যা জানুয়ারিতে ছিল ৮.৮১ শতাংশ। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৩৮ শতাংশ।

