মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস খাতে কার্যক্রম জোরদার করতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘এমক্যাশ’ লিমিটেডে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ আসছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বি১০০ হোল্ডিংস এলএলসি কৌশলগত অংশীদার হিসেবে প্রায় ২৪৫ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) সাবসিডিয়ারি এমক্যাশ লিমিটেডে ২৪৪ কোটি ৯৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এই বিনিয়োগের মাধ্যমে এমক্যাশের পরিশোধিত মূলধন ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ইসলামী ব্যাংক ন্যূনতম ৫১ শতাংশ মালিকানা ধরে রাখবে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২৫৫ কোটি টাকা। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি বি১০০ হোল্ডিংস এলএলসি প্রায় ২৪৫ কোটি টাকার বিনিময়ে সর্বোচ্চ ৪৮ দশমিক ৯৯৯ শতাংশ ইকুইটি অংশীদারত্ব পাবে। তবে এই বিনিয়োগ কার্যকর হওয়ার আগে এমক্যাশের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনসহ সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে হবে।
ব্যাংকটির মতে, কৌশলগত এই বিনিয়োগ এমক্যাশের মূলধন শক্তিশালী করবে এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবার পরিসর বাড়াতে সহায়ক হবে। এর মাধ্যমে মোবাইলভিত্তিক আর্থিক সেবা আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে। নিউইয়র্কভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান বি১০০ হোল্ডিংস এলএলসি মূলতঃ ফিনটেক ও আর্থিক সেবা, রপ্তানিমুখী উৎপাদন, শিক্ষা অবকাঠামো এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগ করে থাকে। প্রাতিষ্ঠানিক মূলধন ও সুশাসন কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশের বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সক্ষমতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করাই তাদের লক্ষ্য।
এদিকে ইসলামী ব্যাংকের সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি–সেপ্টেম্বর) ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৬২ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ১ টাকা ৬৬ পয়সা। ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪৪ টাকা ৪৮ পয়সা।
২০২৪ হিসাব বছরে ব্যাংকটির পর্ষদ বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি। ওই বছরে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৬৮ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ৩ টাকা ৯৫ পয়সা। ২০২৪ সালের শেষে এনএভিপিএস ছিল ৪৪ টাকা ৩৬ পয়সা। এর আগে ২০২৩ ও ২০২২—উভয় হিসাব বছরেই বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটি। ২০২৩ সালে ব্যাংকটির ইপিএস ছিল ৩ টাকা ৯৫ পয়সা এবং ২০২২ সালে ছিল ৩ টাকা ৮৩ পয়সা।
ইসলামী ব্যাংকের সর্বশেষ সার্ভিল্যান্স রেটিং অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকটির রেটিং ‘এ’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-২’। ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল) ২০২৪ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত প্রতিবেদনসহ সংশ্লিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এই রেটিং দিয়েছে।
১৯৮৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইসলামী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৬০৯ কোটি ৯৯ লাখ ১০ হাজার টাকা। ব্যাংকটির রিজার্ভে রয়েছে ৫ হাজার ৫৩১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। মোট শেয়ারের সংখ্যা ১৬০ কোটি ৯৯ লাখ ৯০ হাজার ৬৬৮। বর্তমানে ব্যাংকটির প্রায় ০.১৮ শতাংশ শেয়ার উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে রয়েছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৭৫.০৬ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৭.৯১ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে অবশিষ্ট ৬.৮৫ শতাংশ শেয়ার।

