ঋণব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে কীভাবে কর বাড়ানো যায় সেদিকে সরকার মনোযোগ দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
গতকাল সোমবার (৯ মার্চ) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বেসরকারি খাতের দৃষ্টিতে অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পর্যালোচনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য দেন। সেমিনারে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ মূল প্রবন্ধে জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য হুমকির মুখে রয়েছে।
এ সময় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. মনজুর হোসেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ আকতার হোসেন, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ, বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. এনামুল হক, সাপোর্ট টু সাসটেইনেবল গ্র্যাজুয়েশন প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম জাহাঙ্গীরসহ ঢাকা চেম্বারের বিভিন্ন পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, “রাষ্ট্র পরিচালনায় যে ঘাটতি ছিল তা দূর করার চেষ্টা চলছে। ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কাজ করছে। ঋণ কমিয়ে কর বৃদ্ধি এবং সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিকভাবে রূপান্তর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সরকারের লক্ষ্য বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো। শিক্ষায়, স্বাস্থ্যে এবং ব্যবসায়িক সম্প্রসারণে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং দেশের উন্নয়নের সুফল প্রতিটি নাগরিকের কাছে পৌঁছানো সরকারের অগ্রাধিকার।”
ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নীতিমালার কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্যে ঝুঁকি বেড়েছে। দেশের শিল্পখাতে ব্যবহৃত জ্বালানি মূলত আমদানিনির্ভর হওয়ায় বেসরকারি খাতে অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের নতুন ১০ শতাংশ শুল্কনীতি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে এলডিসি উত্তরণ তিন বছর পিছিয়ে দেওয়া, বাণিজ্য প্রক্রিয়া সহজ করা এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা জরুরি। একই সঙ্গে রাজস্ব ব্যবস্থায় অটোমেশন, প্রত্যক্ষ করের আওতা বৃদ্ধি, সরকারের ঋণ গ্রহণের প্রবণতা কমানো এবং সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়ানোও অত্যাবশ্যক।”

