আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন হবে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনায়। সরকারের লক্ষ্য হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনকল্যাণমুখী বাজেট প্রণয়ন, যা রাজস্ব আদায়, ভর্তুকি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং খাতভিত্তিক উন্নয়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করবে।
অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তার আওতা বাড়ানো, কৃষিনির্ভর শিল্প খাতে জোর দেওয়া ও ভর্তুকি সমন্বয় বিশেষ গুরুত্ব পাবে। অতীতের ধারার বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর রাজস্ব আদায় কাঠামো তৈরি করা হবে। কর ও করবহির্ভূত আয় বৃদ্ধিতে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে, তবে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত কর চাপানো হবে না।
জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সরকার বিশেষ পদক্ষেপ নিতে চলেছে। মেগা প্রকল্পে কম গুরুত্ব দিয়ে এলাকার ভিত্তিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। নতুন উদ্যোগ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হবে। বাজেটে দেশের পুঁজিবাজারে গতি আনতে এবং প্রবাসী বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশেষভাবে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট প্রণয়ন হবে সাধারণ মানুষের কল্যাণমুখী, নির্দিষ্ট শ্রেণি বা ব্যক্তিকে সুবিধা না দিয়ে। সরকারি ব্যয়ে বিলাসিতা পরিহার করে কৃচ্ছ্র সাধন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনায় জোর দেওয়া হবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাজেটকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের উন্নয়নও বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
বেসরকারি খাতের উন্নয়ন এবং পুঁজিবাজারকে গতিশীল করতে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হবে। বেসরকারি খাতের ঋণের শর্ত সহজ করা, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি লাভের সক্ষমতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ভিত্তিতে কোম্পানি তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা চলছে। এ প্রসঙ্গে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, “প্রবাসীরাও কিভাবে পুঁজিবাজারে অংশ নিতে পারেন, তা নিয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করছি। বাজারে আস্থা অর্জনের জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।”
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, কর ও করবহির্ভূত আয় বাড়াতে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে। চলতি অর্থ বছরে রাজস্ব ঘাটতি ও খাতভিত্তিক আয়ের পার্থক্য চিহ্নিত করে বাজেট প্রস্তুত কমিটি প্রণয়ন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এনবিআর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে রাজস্ব বাড়ানোর কৌশল, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরামর্শ এবং দেশের বাস্তব আয়ের অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি মানে হলো সকলকে অন্তর্ভুক্ত করা, বৈষম্য না দেখিয়ে সকলের অধিকার ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। নতুন বাজেটের লক্ষ্য যদি সাধারণ মানুষের কল্যাণ হয়, তা আমি স্বাগত জানাব। তবে বাস্তবসম্মত রাজস্ব লক্ষ্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন, নয়তো সমগ্র অর্থনীতি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।”

