রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত ধানমন্ডি উচ্চবিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই পাঠ্যবই সংকট দেখা দিয়েছে। ১ জানুয়ারি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির কোনো বই পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষাবর্ষের ১১তম দিনে, গত রোববার বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, সপ্তম শ্রেণির বাংলার দুইটি বই (প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র—সপ্তবর্ণা ও আনন্দপাঠ) এসেছে। অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এসেছে পাঁচটি বিষয়ে বই। বাকি বই এখনও পৌঁছায়নি। প্রাথমিক স্তরের সব শ্রেণির বই এবং ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির (হিসাববিজ্ঞান বাদে) সব বই ইতিমধ্যেই বিতরণ করা হয়েছে।
এবার পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তুতে বেশ কিছু পরিবর্তন থাকায় পুরনো বই দিয়ে পড়ানোর ওপর শিক্ষকেরা জোর দিতে পারছেন না। ফলে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির সব বই না পাওয়ায় নিয়মিত ক্লাস পরিচালনায় সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ধানমন্ডি উচ্চবিদ্যালয়ের মতো দেশের আরও অনেক বিদ্যালয়েই একই সমস্যা বিরাজ করছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এখনও সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির সব বই সরবরাহ করতে পারেনি।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সব শিক্ষার্থী সব বই পাবে। তবে পাঠ্যবই ছাপানো, বাঁধাই ও সরবরাহপূর্ব পরিদর্শন (পিডিআই) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে। যত দেরি হবে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতিও তত বৃদ্ধি পাবে।
এনসিটিবি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মোট পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা ৩০ কোটি ২ লাখের বেশি। এর মধ্যে মাধ্যমিক স্তরের বইয়ের সংখ্যা ২১ কোটি ৪৩ লাখ ১৪ হাজার ২৭৪ কপি। ১০ জানুয়ারি রাত ৮টা পর্যন্ত ৮৬.৩৭ শতাংশ বই সরবরাহ করা হয়েছে, যা ১৮ কোটি ৫০ লাখ ৯৫ হাজারের বেশি। এখনও সরবরাহ করা হয়নি ২ কোটি ৯২ লাখ ১৮ হাজারের বেশি বই, যা ১৩.৬৩ শতাংশ।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রমনা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে কথা বলেন শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মারুফ। তার কথায়, তাঁর অধীনে থাকা ২৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরণ করা হচ্ছে। ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির সব বই বিতরণ করা হয়েছে। অষ্টম শ্রেণিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয় বাদে বাকি সব বিষয় এসেছে। সপ্তম শ্রেণির জন্য বাংলার দুইটি বই এসেছে। ১ জানুয়ারি দেখা গেছে, ছোট ট্রাক থেকে বই নামানো হচ্ছে, আর গতকাল বড় ট্রাক থেকে বই নামানো হয়েছে। মানে এখনও বই আসছে।
এনসিটিবির সদস্য অধ্যাপক রিয়াদ চৌধুরী প্রথম আলোর কাছে জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সব শিক্ষার্থীর হাতে সব বই পৌঁছে যাবে বলে তারা আশাবাদী।
ঢাকার বাইরে নেত্রকোনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ে মোট বইয়ের চাহিদা ২৬ লাখ ৫ হাজার কপি। এর মধ্যে ২১ লাখ ৯১ হাজারের বেশি সরবরাহ করা হয়েছে। এখনও ৪ লাখ ১৩ হাজারের বেশি বই বাকি আছে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবীর আহাম্মদ জানান, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির কিছু বই এখনও পৌঁছায়নি। আশা করা হচ্ছে, এক সপ্তাহের মধ্যে বই বিতরণ করা সম্ভব হবে।
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠে ৩২৯ জন শিক্ষার্থী আছে। প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান জানান, অষ্টম শ্রেণির ৬৫ জন শিক্ষার্থী এখনও গণিত বই পাননি।
সংক্ষেপে, প্রাথমিক স্তরে পাঠ্যবই বিতরণ শতভাগ হলেও মাধ্যমিকের সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে বই পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় শিক্ষার গতি প্রভাবিত হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, খুব শিগগিরই সব শিক্ষার্থীর হাতে সব বই পৌঁছে যাবে।

