বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের অদৃশ্য প্রতিযোগিতা চলছে—ডিগ্রির প্রতিযোগিতা। স্কুল ও কলেজ শেষ করে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর লক্ষ্য থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে উচ্চ ডিগ্রি অর্জন করা এবং তথাকথিত “সাদা কলার” পেশায় প্রবেশ করা। কিন্তু এই উচ্চশিক্ষার মোহের আড়ালে ধীরে ধীরে উপেক্ষিত হয়ে পড়ছে দক্ষতা ও কর্মমুখী কারিগরি শিক্ষা।
ফলে একদিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাড়ছে শিক্ষার্থীর চাপ, অন্যদিকে শিল্প ও উৎপাদন খাতে দক্ষ কারিগরি জনশক্তির ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
উচ্চশিক্ষার প্রতি সমাজে প্রচলিত আকর্ষণ এবং কারিগরি শিক্ষার প্রতি দীর্ঘদিনের অবহেলার ফলে দেশে এই শিক্ষাখাতের বিস্তার ও মানোন্নয়ন বর্তমানে গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। অনেক কারিগরি প্রতিষ্ঠানে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে; পাশাপাশি আধুনিক ল্যাবরেটরি ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ সরঞ্জামের অভাবও স্পষ্ট। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডিপ্লোমা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষায় অগ্রসর হওয়ার সীমিত সুযোগ। এসব কারণে সাধারণ শিক্ষার তুলনায় কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এখনও তুলনামূলকভাবে কম।
অন্যদিকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই সময়ে বিশ্ব অর্থনীতি ক্রমেই দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে, যেখানে ব্যবহারিক দক্ষতাই কর্মসংস্থানের প্রধান ভিত্তি। দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হলে কারিগরি শিক্ষাকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন ও আরও শক্তিশালী করা আজ সময়ের অপরিহার্য দাবি।
বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষার বিকাশের পথে সবচেয়ে বড় বাঁধাগুলোর একটি হলো সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি। দীর্ঘদিন ধরে সমাজে এমন একটি ধারণা গড়ে উঠেছে যে সাধারণ শিক্ষা বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিই সফলতার প্রধান পথ। ফলে কারিগরি শিক্ষাকে অনেক ক্ষেত্রেই তুলনামূলকভাবে কম মর্যাদার শিক্ষা হিসেবে দেখা হয়। এই সামাজিক প্রবণতার কারণে মেধাবী শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ কারিগরি শিক্ষার পরিবর্তে সাধারণ শিক্ষার দিকেই ঝুঁকে পড়ে।
এর পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকগুলোতেই মানসম্মত শিক্ষক, আধুনিক ল্যাবরেটরি এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত যন্ত্রপাতির ঘাটতি রয়েছে। অনেক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ল্যাব থাকলেও সেগুলোতে পর্যাপ্ত বা আধুনিক সরঞ্জাম নেই, আবার কোথাও কোথাও বিদ্যমান যন্ত্রপাতির একটি অংশ অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।
সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে কারিগরি শিক্ষায় ভর্তির হার ৩০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। কিন্তু ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আসনের অনেকাংশ এখনও খালি রয়েছে এবং ভর্তির হার প্রত্যাশিত তুলনায় কম। মাত্র ২৩.৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠানই তাদের আসনের ৮০ শতাংশ পূরণ করতে পেরেছে, যা নির্দেশ করে প্রায় ৭৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে আসন ব্যাপকভাবে খালি। এর পেছনে গুণমানহীন শিক্ষা, চাকরির বাজারের সঙ্গে পাঠ্যক্রমের অসামঞ্জস্যতা এবং সমাজে কারিগরি শিক্ষার প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি মূল কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো ডিপ্লোমা সম্পন্ন করার পর উচ্চশিক্ষায় অগ্রসর হওয়ার সুযোগের সীমাবদ্ধতা। বর্তমানে অল্প কিছু প্রতিষ্ঠানে এই সুযোগ থাকলেও তা শিক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় খুবই সীমিত। বিশেষ করে পলিটেকনিক থেকে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করার পর (ডুয়েট ছাড়া) বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংসহ উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের সুযোগ কম হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীর আগ্রহ কমে যায়।
এছাড়া বর্তমান কারিগরি শিক্ষার কারিকুলাম এবং বাস্তব কর্মক্ষেত্রের চাহিদার মধ্যেও অনেক ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্য দেখা যায়। শিল্পখাতে যে ধরনের আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষতার প্রয়োজন, পাঠ্যক্রমে তার সঙ্গে সব সময় সামঞ্জস্য থাকে না। ফলে শিক্ষার্থীরা অনেক সময় বাস্তব কর্মজীবনের জন্য পর্যাপ্তভাবে প্রস্তুত হতে পারে না।
অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও এ খাতের আরেকটি বড় সমস্যা। অনেক পলিটেকনিক ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পরিবেশ এখনও গড়ে ওঠেনি। একই সঙ্গে সরকার কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও বাস্তবে তা পুরোপুরি অর্জিত হয়নি।
এসব সীমাবদ্ধতার কারণে দেশে দক্ষ কারিগরি জনশক্তি গড়ে তোলার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ শিল্পায়ন, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন, আধুনিকায়ন এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো এখন সময়ের অপরিহার্য প্রয়োজন।
কারিগরি শিক্ষা দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। এটি কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে বেকারত্ব কমাতে সাহায্য করে, শিল্প ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে। যুগোপযোগী ও বাজারভিত্তিক কারিগরি শিক্ষা আত্মকর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা তৈরি এবং মাথাপিছু আয় বাড়িয়ে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দেশের ১৮ কোটি জনসংখ্যাকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব। কারিগরি শিক্ষা গ্রহণকারীরা সহজেই চাকরি পেতে পারে বা নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করে স্বাবলম্বী হতে পারে, যা বেকারত্ব হ্রাসে সহায়ক। দক্ষ টেকনিশিয়ান ও কারিগররা বিদেশে কাজের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে, যা রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে শিল্পের উৎপাদনশীলতা বাড়ে, কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়ক হয় এবং দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখা সম্ভব।
তবে কারিগরি শিক্ষাকে আরও কার্যকর করতে হলে শিক্ষার মানোন্নয়ন জরুরি। এজন্য প্রয়োজন যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম, আধুনিক ল্যাবরেটরি এবং দক্ষ শিক্ষকের মাধ্যমে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা। শিল্প ও বাজারের চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে শিক্ষার মানোন্নয়ন করা হলে কারিগরি শিক্ষা বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের চাবিকাঠি হতে পারে।
শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনও বলেছেন, দেশের বিপুল জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষাকে আধুনিক, যুগোপযোগী এবং বাজারের চাহিদাভিত্তিক করতে হবে। এজন্য পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ জোরদার করা, শিল্পখাত ও একাডেমিয়ার মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপন এবং কারিকুলাম আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া অত্যাবশ্যক।
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (TVET-Technical and Vocational Education and Training) মূলতঃ এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা, যা নির্দিষ্ট পেশা বা শিল্পখাতে কাজের জন্য ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনে শিক্ষার্থীদের সক্ষম করে। এটি শিল্প, নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তি, বিদ্যুৎ, যন্ত্রপাতি পরিচালনা, অটোমোবাইল এবং অন্যান্য কারিগরি পেশায় দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে অপরিহার্য।
বিশ্বের উন্নত ও দ্রুত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে দক্ষতা ভিত্তিক শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্ব পায়। যেমন: জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া এবং সিঙ্গাপুরে কারিগরি শিক্ষায় অংশগ্রহণের হার অনেক বেশি। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তব চিত্র এখনও ভিন্ন, যেখানে শিক্ষার্থীর উচ্চ শিক্ষার প্রতি আকর্ষণ বেশি এবং কারিগরি শিক্ষার প্রসার তুলনামূলকভাবে কম।
বাংলাদেশে শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষার দিকে বেশি ঝুঁকছে মূলত ভালো ক্যারিয়ার, আর্থিক নিরাপত্তা এবং সামাজিক মর্যাদার কারণে। অধিকাংশ মানুষ মনে করেন, উন্নত চাকরি, উচ্চ আয় এবং মানসম্মত জীবনযাপনের জন্য ডিগ্রি অর্জন অপরিহার্য।এছাড়াও উচ্চশিক্ষা শিক্ষার্থীদের বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জনের সুযোগ দেয়, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি ও দক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং দেশের বাইরে উন্নত শিক্ষা বা গবেষণার সুযোগ খোলার পথে সহায়ক হয়।
সামাজিক দিক থেকেও উচ্চশিক্ষা এক ধরনের মর্যাদার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। একজন শিক্ষার্থী বা পেশাজীবীর উচ্চশিক্ষা অর্জন তাকে সমাজে স্বীকৃতি ও সম্মান দেয়। অনেক নিয়োগকর্তাই প্রার্থী নির্বাচনকালে ডিগ্রিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখেন, যা শিক্ষার্থীর অধ্যবসায় ও যোগ্যতার প্রতিফলন হিসেবে ধরা হয়।
বিশ্বব্যাপীও উচ্চশিক্ষা শিক্ষার্থীদের জন্য সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়। এটি শুধু চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার সুযোগ নয়; বরং উদ্যোক্তা হওয়া, বৈদেশিক অভিজ্ঞতা অর্জন এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গড়ার পথও সুগম করে। তাই বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্চ শিক্ষার প্রতি আগ্রহের বৃদ্ধি সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ন্যানোটেকনোলজি, বায়োটেকনোলজি এবং রোবোটিক্সের মতো নতুন প্রযুক্তি দেশের শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বাড়িয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা এখনও এই চাহিদা মেটাতে সক্ষম নয়। অনেক শিক্ষার্থীর প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত দক্ষতা নেই, ফলে শিল্পখাতের কর্মসংস্থান পূরণে বিদেশি কর্মীর ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে। অধিকাংশ কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক ল্যাব, যথাযথ যন্ত্রপাতি এবং প্রশিক্ষিত শিক্ষকের ঘাটতি লক্ষ্য করা যায়। কারিকুলামও প্রায়শই বাস্তব কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন, যার কারণে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জনে পিছিয়ে থাকে।
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কারিগরি শিক্ষাকে আধুনিকায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষার মধ্যে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ বাড়ানো, প্রযুক্তি-ভিত্তিক কোর্স চালু করা এবং সাধারণ শিক্ষার পাঠ্যক্রমেও কারিগরি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা দেশের তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুযোগকে কাজে লাগাতে পারবে এবং দক্ষ শ্রমশক্তির ঘাটতি কমিয়ে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে।
বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষার সংকট মোকাবিলার জন্য সময়োপযোগী এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। প্রথমে, শিক্ষার মান বৃদ্ধি করতে হবে। এর জন্য কারিগরি প্রতিষ্ঠানে আধুনিক ল্যাবরেটরি, যথাযথ যন্ত্রপাতি এবং হাতে-কলমে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকের নিয়োগ বাড়ানো অপরিহার্য, যাতে শিক্ষার্থীরা তত্ত্বের সঙ্গে ব্যবহারিক জ্ঞানও অর্জন করতে পারে।
শিল্পখাত ও একাডেমিয়ার মধ্যে শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তোলাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্প মালিক এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে পাঠ্যক্রম তৈরি করলে শিক্ষার্থীরা বর্তমান বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষতা অর্জন করতে পারবে এবং সহজেই কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। এছাড়া সমাজে কারিগরি শিক্ষার মর্যাদা বাড়ানোও জরুরি। সচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবককে বোঝাতে হবে যে কারিগরি শিক্ষা শুধু বিকল্প নয়, বরং দেশের অর্থনীতি ও শিল্পখাতের জন্য অপরিহার্য। এছাড়া, পলিটেকনিক বা ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি এবং ক্যারিয়ার-নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে শিক্ষার্থীর আগ্রহ আরও বাড়বে।
বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষের হার মাত্র দুই শতাংশ, যেখানে উন্নত দেশগুলোতে এটি ৫০–৮০ শতাংশ। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে হলে কারিগরি শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা, অবকাঠামো উন্নয়ন করা এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা অপরিহার্য। যদি এসব পদক্ষেপ সফলভাবে নেওয়া যায়, তবে দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত হবে, যা কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

