বিশ্ব ফুটবলের দুই শক্তিধর দল আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যে নির্ধারিত ২০২৬ সালের ফিনালিসিমা শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে শুরুতে ম্যাচটি স্থগিত করা হয়েছিল। পরে ইউরোপে বিকল্প ভেন্যুতে আয়োজনের আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
ফলে ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরো ২০২৪ চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বহুল প্রতীক্ষিত এই দ্বৈরথ মাঠে গড়ানোর আগেই বাতিল হয়ে যায়।
ম্যাচ বাতিল হওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু ফুটবল মহলে একটি গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে বলা হচ্ছিল, আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি নাকি ম্যাচটি আর্জেন্টিনায় আয়োজন করতে চেয়েছিলেন, আর সেই কারণেই আলোচনায় জটিলতা তৈরি হয়েছে।
তবে এই গুঞ্জনের কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছে ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন। বরং প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যাচটি বাতিল হওয়ায় সবচেয়ে হতাশ ব্যক্তিদের একজন ছিলেন মেসি নিজেই।
সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, মেসি এই ম্যাচটিকে বিশ্বকাপের আগে একটি বড় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা হিসেবে দেখছিলেন। তিনি এটিকে প্রায় একটি ‘বাস্তব ফাইনাল’ হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন।
ইন্টার মায়ামির এই তারকা ম্যাচ বাতিলের সিদ্ধান্তে কোনো ভূমিকা রাখেননি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৭ মার্চ কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে ফিনালিসিমা আয়োজনের কথা ছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র হয়ে ওঠার পর নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে কাতারে ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা বাতিল করা হয়।
এরপর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিকল্প ভেন্যু খোঁজা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো প্রস্তাবেই দুই কনফেডারেশন একমত হতে পারেনি।
ম্যাচ বাতিলের বিষয়ে উয়েফা ও কনমেবল ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে, যা পুরো বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
উয়েফা তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, কাতারের আয়োজক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর স্পষ্ট হয়েছে যে অঞ্চলের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেখানে ফিনালিসিমা আয়োজন করা সম্ভব নয়।
তারা আরও জানিয়েছে, অন্যান্য সম্ভাব্য ভেন্যু বিবেচনা করা হলেও শেষ পর্যন্ত সেগুলোর কোনোটিই আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।
অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবল ভিন্ন দাবি করেছে। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিকল্প ভেন্যু ও তারিখ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল এবং আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বেশিরভাগ শর্তে সম্মত ছিল।
তবে তারা ৩১ মার্চ ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু উয়েফা জানায়, মূল নির্ধারিত তারিখের মাত্র চার দিন পর এত বড় ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব নয়। এই মতবিরোধ থেকেই শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি বাতিল হয়ে যায়।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ফিনালিসিমা ম্যাচটি দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ এটি বিশ্বকাপের আগে দুই মহাদেশের সেরা দলগুলোর শক্তি যাচাইয়ের একটি বড় সুযোগ হতে পারত।
বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ও স্পেন—দুই দলই সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ফলে ম্যাচটি ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংগঠনগুলোর মতবিরোধের কারণে শেষ পর্যন্ত সেই প্রতীক্ষিত ম্যাচটি আর অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।
বিশ্ব ফুটবলের দুই চ্যাম্পিয়নের এই সম্ভাব্য লড়াই বাতিল হওয়ায় এখন ভক্তদের অপেক্ষা করতে হবে অন্য কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে তাদের মুখোমুখি হওয়ার জন্য।

