গতকাল বাজল শেষ বাঁশি, আর সেটা যেন ফুটবল প্রেমীদের হৃদয়ের গহীনে এক অমর স্মৃতি রেখে গেল। ইরাক এবং বলিভিয়া একে অপরকে চ্যালেঞ্জ করে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে যাওয়ার চেষ্টা করছিল, আর সেই ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই ইরাকের ফুটবলাররা ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরার আনন্দে একে অপরকে জড়িয়ে ধরলে, বলিভিয়ার খেলোয়াড়রা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ফুজাইরা শহরের সুন্দর সবুজ পাহাড়ি অরণ্যের মাঝে অবস্থিত ভেন্যুতে শুরু থেকেই জমে ওঠে এই বিশ্বকাপ প্লে-অফ ফাইনাল। আক্রমণ ও প্রতিঅক্রমণে দুটো দলই শক্তিশালী ছিল, তবে বলিভিয়া আক্রমণ ও বল দখলে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও ইরাক কার্যকারিতায় ছিল এগিয়ে।
ম্যাচের প্রথম সুযোগটি ছিল ইরাকের পক্ষে। ৯ মিনিটে তারা বক্সের বাইরে একটি ফ্রি-কিক পায়, যা অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ঠেকান বলিভিয়ার গোলরক্ষক গিলের্মো ভিসকারা। তবে পরের মিনিটেই ইরাক এগিয়ে যায়। আল-আমারির কর্নার থেকে দারুণ এক হেডে আল-হামাদি ইরাককে ১-০ গোলের লিড এনে দেন।
তবে পিছিয়ে পড়ে বলিভিয়া মরিয়া হয়ে ওঠে। তারা ইরাককে চাপে ফেলে একের পর এক আক্রমণ চালায়। ম্যাচের ৩৮ মিনিটে তারা সমতা ফেরায়। মইসেস পানিয়াগুয়া বলিভিয়ার হয়ে দুর্দান্ত এক গোল করেন, যা প্রথমার্ধে সমতায় নিয়ে আসে।
বিরতির পর ইরাক আরেকটি আক্রমণ চালিয়ে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ম্যাচের ৪৯ মিনিটে, বদলি নামা মার্কো ফারজি পাসে আইমেন হুসেইন দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে গোল করে ইরাককে ২-১ গোলের লিড এনে দেন।
শেষ পর্যন্ত বলিভিয়া পুরোপুরি লড়াই করে গেছে, তবে তাদের শেষ মুহূর্তের আক্রমণগুলো সফল হয়নি। ইরাক ২-১ গোলে জয়লাভ করে ১৯৮৬ সালের পর তাদের দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ খেলার টিকিট কাটে।
ইরাকের খেলোয়াড়দের উল্লাস আর বলিভিয়ার গোলরক্ষক গিলের্মো ভিসকারা-র কান্নার দৃশ্য ফুটবল বিশ্বের একটি আবেগময় মুহূর্ত হয়ে থাকবে। একদিকে উচ্ছ্বাসের ঝড়, আরেকদিকে হতাশায় ভেঙে পড়া—এটাই ফুটবল!
এভাবে ৪৮তম দল হিসেবে বিশ্বকাপের টিকিট কেটে ইরাক ইতিহাসে তাদের জায়গা করে নিলো। এই জয় ছিল শুধুমাত্র ফুটবল নয়, বরং তাদের জন্য একটি নতুন স্বপ্নের শুরু।

