বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তাদের পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে। বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সাম্প্রতিক সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তফসিল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে গঠন করা হবে তিন সদস্যের একটি নির্বাচন কমিশন। যদিও এখনো সদস্যদের নাম চূড়ান্ত হয়নি, তবে জানা গেছে কমিশনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় অথবা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে একজন প্রতিনিধি থাকবেন, আর বাকি দুইজনকে মনোনয়ন দেবে বিসিবি। একই সঙ্গে সব ক্যাটাগরি থেকে কাউন্সিলর মনোনয়নের জন্য শিগগিরই বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। আশা করা হচ্ছে, এক সপ্তাহের মধ্যেই কাউন্সিলর তালিকা প্রস্তুত হয়ে যাবে।
নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আঞ্চলিক পর্যায়েও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশালের আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থার পূর্বঘোষিত অ্যাডহক কমিটিগুলো বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলো আপাতত আগের কাঠামোতেই থাকলেও, প্রয়োজনে জেলা প্রশাসকরা নতুন কাউন্সিলর মনোনয়ন দিতে পারবেন, এমনকি তারা সংস্থার সদস্য না হলেও।
সভা শেষে বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, মিরপুর স্টেডিয়ামে সাবেক ক্রিকেটারদের জন্য একটি বিশেষ লাউঞ্জ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড-এর আদলে গড়ে তোলা হবে। সেখানে খেলা না থাকলেও সাবেক খেলোয়াড়রা এসে সময় কাটাতে পারবেন।
সব মিলিয়ে, বিসিবির এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। প্রশাসনিক কাঠামোতে পরিবর্তন, নতুন নেতৃত্বের সম্ভাবনা এবং ক্রিকেট পরিচালনায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি—সবকিছু মিলিয়ে সামনে অপেক্ষা করছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়।
সিভি/এইচএম

