আজ ১১ জুন। ঠিক এক বছর পর, এই তারিখেই মাঠে গড়াবে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আয়োজন—২০২৬ সালের বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে ২৩তম আসর। এবারের বিশ্বকাপে নতুন এক ইতিহাস তৈরি হতে যাচ্ছে, কারণ প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছে ৪৮টি দল। এত বড় পরিসরের টুর্নামেন্টের জন্য ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকেই শুরু হয়েছে বাছাইপর্ব।
স্বাগতিক হওয়ার সুবাদে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডা সরাসরি বিশ্বকাপে খেলবে। বাকি ৪৫টি জায়গার জন্য মাঠে নেমেছে বিশ্বের ২০৬টি দেশ। এর মধ্যে ১০টি দেশ ইতোমধ্যে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে ফেলেছে।
দক্ষিণ আমেরিকার বাছাইপর্বে আজই বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল, তারা প্যারাগুয়েকে হারিয়ে নিশ্চিত করেছে চূড়ান্ত পর্বের টিকিট। এর আগেই আর্জেন্টিনা এবং ইকুয়েডর জায়গা করে নিয়েছে। ওশেনিয়া অঞ্চল থেকে এবারও বিশ্বকাপে খেলবে নিউজিল্যান্ড।
এশিয়া থেকে ৬টি দল এরই মধ্যে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে—অস্ট্রেলিয়া, ইরান, জাপান, জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া ও উজবেকিস্তান। এর মধ্যে জর্ডান ও উজবেকিস্তানের জন্য এটা হবে প্রথম বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা। তারা ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে।
এতসব উত্তেজনার মধ্যেই বাদ পড়ে গেছে ৬৮টি দল। কঙ্গো, গাম্বিয়া, সিচেলেস, চাদসহ বেশ কিছু দেশের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।
অন্যদিকে ইউরোপের অনেক দলের এখনও বাছাইপর্ব শুরু হয়নি। জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক, সুইডেন, পর্তুগালের মতো দেশগুলো নিজেদের অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে খুব শিগগিরই। তাদের নিয়ে উত্তেজনা আরও বাড়বে।
এখন সময়টা যেন এক প্রাক-উৎসবের মতো। সারা বিশ্ব জুড়ে ফুটবলপ্রেমীরা দিন গুনছে, আর টিকিটের জন্য যুদ্ধটা যেন দিনকে দিন আরও রোমাঞ্চকর হয়ে উঠছে। আগামী বছরের এই দিনেই শুরু হবে বিশ্বকাপের উত্তাপ, আর তার আগে প্রতিটি ম্যাচ, প্রতিটি গোল, প্রতিটি জয় হয়ে উঠছে বিশ্বকাপের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একেকটা ধাপ।
এই বিশ্বকাপ শুধু অংশগ্রহণকারী সংখ্যার দিক থেকেই নয়, বৈচিত্র্যময় আয়োজক দেশ, নতুন নতুন দল, এবং বৈশ্বিক আবেগের কারণেও হবে একেবারে অনন্য। ফুটবল যে শুধু খেলা নয়, তা আগামী ১১ জুন থেকে আবারও প্রমাণ হবে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই টুর্নামেন্টে।

