গলের টেস্ট ম্যাচে চতুর্থ দিনের সকালটা ছিল শ্রীলঙ্কার দখলে। ৪ উইকেট হাতে রেখে মাত্র ৩০ রানে পিছিয়ে থেকে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায় লঙ্কানরা। এমন সময় মনে হচ্ছিল, হয়তো বড় লিড নিয়েই চাপ দেবে বাংলাদেশকে। কিন্তু দ্বিতীয় সেশনে পুরো চিত্রটাই বদলে গেল। বাংলাদেশের তরুণ স্পিনার নাইম হাসান বল হাতে নেমে যা করলেন, তা নিঃসন্দেহে এই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
লাঞ্চের পর থেকেই ঘূর্ণি ছোবল দিতে থাকেন নাইম। একে একে ভেঙে পড়তে থাকে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং অর্ডার। শেষ পর্যন্ত ৪৮৫ রানেই গুটিয়ে যায় লঙ্কানদের ইনিংস। এতে করে ১০ রানের ক্ষুদ্র লিড পায় বাংলাদেশ—যা এই পরিস্থিতিতে বিশাল মানসিক জয় হিসেবেই বিবেচিত হতে পারে। পাঁচ উইকেট নিয়ে নাইম হাসান হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের মূল নায়ক।
এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করেছিল ৪৯৫ রান। সেই রান টপকাতে গিয়েও ব্যর্থ হলো স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা, যারা মাঝ পথে বেশ দাপটের সঙ্গেই খেলছিল। কিন্তু স্পিনের ধাঁধাঁয় আটকে পড়তে হয়েছে তাদের।
এখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে বাংলাদেশের দিকে আসছে। চতুর্থ দিনের বাকি সময় এবং পঞ্চম দিনে টাইগারদের লক্ষ্য হবে ঠাণ্ডা মাথায় ব্যাটিং করে লঙ্কানদের সামনে একটি লড়াকু লক্ষ্য দাঁড় করানো। একইসঙ্গে স্পিন সহায়ক এই উইকেটে দ্বিতীয় ইনিংসের বোলিংয়েও বড় ভূমিকা রাখতে হবে নাইমসহ বাকি বোলারদের।
গল টেস্ট এখন একেবারে উত্তেজনার চূড়ায়। এই ম্যাচ বাংলাদেশ জিততে পারে কি না, তা নির্ভর করছে পরবর্তী ইনিংসে ব্যাটসম্ভব দক্ষতা এবং চাপ মোকাবিলার মানসিকতার ওপর। তবে চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনে যেভাবে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ, তা নিঃসন্দেহে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।

