দেশের প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান কিশোর-কিশোরীদের খুঁজে এনে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের উদ্যোগে সফলভাবে শেষ হলো ‘অনূর্ধ্ব-১৬ ক্রীড়া অন্বেষণ কর্মসূচি ২০২৪–২৫’-এর সমাপনী অনুষ্ঠান। বুধবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণ খেলোয়াড়দের হাতে সম্মাননা তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
সারা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ৫০০ উদীয়মান খেলোয়াড় এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। প্রাথমিক বাছাইয়ের পর ১০টি ইভেন্টে নির্বাচিত হন মোট ১৬২ জন প্রতিযোগী—যাদের মধ্যে ৮৯ জন বালক ও ৭৩ জন বালিকা। একটানা প্রশিক্ষণ আর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের মধ্য থেকে ফুটে ওঠে আগামী দিনের সম্ভাবনা।
এই অনুষ্ঠান শুধু একটি আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি নয়, বরং অনেক তরুণ ক্রীড়াপ্রেমীর স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রথম ধাপ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানান,
“আমরা চাই না এই অন্বেষণ করা প্রতিভারা হারিয়ে যাক। এজন্যই একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ তৈরি করা হয়েছে, যাতে প্রতিটি খেলোয়াড়ের উন্নয়ন ট্র্যাক রাখা যায়। ফেডারেশনগুলোর মাধ্যমে ছয় মাস অন্তর পুনঃমূল্যায়নের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।”
এই উদ্যোগের ফলে খেলোয়াড়রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণে থাকবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা দেওয়া সম্ভব হবে।
সব প্রতিভার পেছনে থাকে সংগ্রামের গল্প। তাই আর্থিক অসচ্ছল খেলোয়াড়দের যাতে পথ আটকে না যায়, সেজন্যও নেওয়া হয়েছে উদ্যোগ।
“যারা আর্থিকভাবে পিছিয়ে, তাদের পাশে থাকবে ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন,” বলেন উপদেষ্টা।
অনুষ্ঠানে ক্রীড়াবিদ, কোচ, সংগঠক এবং বিভিন্ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সবাই এই কর্মসূচিকে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের ভবিষ্যৎ ভিত্তি হিসেবে দেখছেন। অংশগ্রহণকারী কিশোর-কিশোরীরাও বলছে, এটাই তাদের জীবনের বড় সুযোগ—নিজেদের প্রমাণের, স্বপ্নকে বাস্তব করার।
‘অনূর্ধ্ব-১৬ ক্রীড়া অন্বেষণ কর্মসূচি ২০২৪–২৫’ কেবল একটি প্রজেক্ট নয়, এটি একটি প্রত্যয়—যেখানে মাঠে ঘাম ঝরানো কিশোরের চোখে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন জন্ম নেয়। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের এমন উদ্যোগ যদি ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হয়, তবে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পতাকা উঁচু করে তোলার মতো অনেক তারকা এখান থেকেই উঠে আসবে।

