আগস্টে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসার কথা ছিল ভারতের। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে দুই দেশের মধ্যে চলমান অস্থিরতা এবং দিল্লির পক্ষ থেকে ক্রিকেট সফরে সবুজ সংকেত না মেলায় অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে এই বহুল প্রতীক্ষিত সিরিজ।
বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় সরকার এই মুহূর্তে জাতীয় ক্রিকেট দলকে বাংলাদেশে পাঠাতে প্রস্তুত নয়। যদিও বিসিসিআই (ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড) আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও সফর বাতিলের ঘোষণা দেয়নি, তবুও দিল্লির একাধিক সরকারি সূত্র জানিয়েছে, সিরিজ আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র মেলেনি।
সফর বাতিল হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মিডিয়া স্বত্ব সংক্রান্ত কার্যক্রম স্থগিত রাখা। ক্রীড়াভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ জানিয়েছে, বিসিবির মিডিয়া স্বত্বের টেকনিক্যাল নিলাম হওয়ার কথা ছিল ৭ জুলাই এবং ফাইনান্সিয়াল নিলাম ১০ জুলাই। কিন্তু ভারত সফরের বিষয়ে অনিশ্চয়তার কারণে আপাতত এই প্রক্রিয়া বন্ধ রেখেছে বিসিবি।
বিসিবির এক কর্মকর্তা ক্রিকবাজকে বলেন, “ভারত সিরিজের সূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বিসিসিআই জানিয়েছে, তাদের পক্ষে আগস্টে বাংলাদেশ সফর কঠিন হবে। তবে সিরিজটি আইসিসির ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রামের (এফটিপি) অংশ, তাই পরবর্তীতে নতুন করে সূচি নির্ধারিত হতে পারে।”
সিরিজটি পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৭ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন এটি স্থগিত হলে বিসিবি বড় অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ ভারত-বাংলাদেশ সিরিজের মতো জনপ্রিয় দ্বিপাক্ষিক সিরিজ যেকোনো বোর্ডের জন্যই বড় রাজস্ব আয়ের উৎস।
মিডিয়া স্বত্ব বিক্রি নিয়েও পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনেছে বিসিবি। দুই বছরের জন্য (জুলাই ২০২৫–জুন ২০২৭) পুরো এফটিপি সময়কালের মিডিয়া স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা থাকলেও এখন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির বদলে একাধিক সিরিজ ভিত্তিক চুক্তির কথাই ভাবছে বিসিবি।
ভারত সফর না হলেও আগামী ১৭–২৫ জুলাইয়ের মধ্যে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছে বোর্ড। বিসিবি আপাতত সেই সিরিজের মিডিয়া স্বত্ব নিয়েই এগোচ্ছে।
ভারতের মতো দলের বিপক্ষে হোম সিরিজ শুধু খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগই নয়, আর্থিকভাবেও বিশাল সুযোগ তৈরি করে। তাই এই সফর বাতিল হলে ক্রীড়াঙ্গনের পাশাপাশি বিসিবির পরিকল্পনাতেও বড় ধাক্কা লাগবে— এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
তবে কূটনৈতিক জটিলতা কাটিয়ে দুই দেশের বোর্ড ভবিষ্যতে সিরিজটির নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিসিবির কর্মকর্তারা।

