বিশ্ব ক্রিকেটে বড় এক পালাবদল ঘটল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) তাদের নতুন প্রধান নির্বাহী হিসেবে নিয়োগ দিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রীড়া প্রশাসক সঞ্জোগ গুপ্তাকে। সোমবার (৭ জুলাই) তাকে আইসিসির সপ্তম সিইও হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
যিনি এতদিন ছিলেন বিশ্বের অন্যতম বড় মিডিয়া প্রতিষ্ঠান জিওস্টার-এর ‘স্পোর্টস অ্যান্ড লাইভ এক্সপেরিয়েন্স’ বিভাগের প্রধান। এখন সেই মিডিয়া ব্যাকগ্রাউন্ডের মানুষটিই উঠে এলেন ক্রিকেট বিশ্বের সর্বোচ্চ প্রশাসনে।
সঞ্জোগ গুপ্তার যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১০ সালে স্টার ইন্ডিয়াতে। তখন তিনি কাজ করতেন কনটেন্ট ও প্রোগ্রামিং নিয়ে। কিন্তু ধীরে ধীরে নিজেকে গড়েছেন এমন একজন নেতৃত্বে, যার চিন্তাধারায় ক্রীড়া সম্প্রচারের ধরণই বদলে গেছে।
২০২০ সালে তিনি হন স্টার স্পোর্টসের প্রধান। তার অধীনে আইপিএল ও আইসিসি টুর্নামেন্টের বহুভাষিক সম্প্রচার, ডিজিটাল-প্রথম কভারেজ এবং নারী ক্রীড়ার ওপর জোর—এইসব মিলিয়ে ভারতীয় ক্রীড়াদর্শক নতুন অভিজ্ঞতার স্বাদ পেতে শুরু করে।
২০২৪ সালে ভায়াকম১৮ ও ডিজনি-স্টার একীভূত হয়ে গঠন করে জিওস্টার। এই নতুন ক্রীড়া প্ল্যাটফর্মের দায়িত্বও তখন তুলে দেওয়া হয় গুপ্তার কাঁধে।
এই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য আবেদন করেছিলেন ২৫টি দেশের প্রায় ২৫০০ জন। সেখান থেকে চূড়ান্তভাবে শর্টলিস্ট করা হয় মাত্র ১২ জনকে। আর এই তালিকা থেকে একমাত্র সঞ্জোগ গুপ্তার নামই সুপারিশ করে মনোনয়ন কমিটি, যা পরে আইসিসির পূর্ণ বোর্ডে অনুমোদিত হয়।
আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ বলেন,
“সঞ্জোগ ক্রীড়া কৌশল ও বাণিজ্যিকীকরণে অভিজ্ঞ, পাশাপাশি তিনি প্রযুক্তি ও ভক্তদের চাহিদা বোঝেন। তিনি আমাদের লক্ষ্যপূরণে বড় ভূমিকা রাখবেন।”
গুপ্তা নিজেই বলেছেন,
“ক্রিকেট এখন এক ঐতিহাসিক মোড়ে দাঁড়িয়ে। বিশ্বব্যাপী ২০০ কোটির বেশি মানুষের ভালোবাসা পাওয়া এই খেলাটি সামনে আরও প্রসারিত হবে—বিশেষ করে যখন ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে এবং প্রযুক্তি অভাবনীয় গতিতে এগিয়ে চলেছে।”
সঞ্জোগ গুপ্তার নেতৃত্বে যে কয়েকটি পরিবর্তন স্পষ্টভাবে নজর কাড়ে:
- আইপিএল ও আইসিসি ইভেন্টের সম্প্রচারে নতুন মাত্রা
- প্রো কাবাডি ও আইএসএলের মতো ঘরোয়া লিগ জনপ্রিয় করে তোলা
- নারী ক্রীড়ায় বিনিয়োগ ও গুরুত্ব বৃদ্ধিতে সাহসী ভূমিকা
- প্রিমিয়ার লিগ, উইম্বলডনের মতো আন্তর্জাতিক ইভেন্টে দর্শক বাড়ানো
- ডিজিটাল যুগের চাহিদা মেটাতে কনটেন্ট ও স্ট্র্যাটেজি বদলে ফেলা
আইসিসির ইতিহাসে এই প্রথম কোনও মিডিয়া-ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা ব্যক্তি প্রধান নির্বাহী পদে এলেন।
এটা এক দারুণ ইঙ্গিত—ক্রিকেট শুধু মাঠের খেলা নয়, এটি এখন একটি ভবিষ্যতমুখী গ্লোবাল ব্র্যান্ড, যেখানে প্রযুক্তি, ভক্ত এবং বাজারের প্রভাব সব একত্রে বিবেচনায় রাখতে হয়।
সঞ্জোগ গুপ্তার নিয়োগকে কেন্দ্র করে ক্রিকেট বিশ্বে নতুন আলোচনার জন্ম নিয়েছে—
ক্রিকেট কি এখন কেবল খেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি হয়ে উঠবে এক সর্বব্যাপী অভিজ্ঞতা?
সঞ্জোগ গুপ্তার নেতৃত্বে আইসিসির সামনে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়ার বড় সুযোগ।

