সবকিছু এখন নির্ভর করছে আজকের এক ম্যাচের উপর। সিরিজের ফয়সালা হবে আজই। বিকেল ৩টায় পাল্লেকেলের মাঠে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা—তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে। তিন ম্যাচের সিরিজ এখন ১-১ সমতায়। এই ম্যাচে যে দল জিতবে, সিরিজ যাবে তাদের ঝুলিতে। আর যদি বৃষ্টি বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে আবারও হতাশ হতে পারে টাইগাররা।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ে ভুগেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় মেহেদী হাসান মিরাজের দল। তিন বিভাগেই—ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—ছিল চোখে পড়ার মতো উন্নতি। বিশেষ করে তানভীর ইসলামের দাপুটে পাঁচ উইকেট আর শামীম হোসেন পাটোয়ারির বোলিং জাদু দলকে এনে দেয় আত্মবিশ্বাসের জ্বালানি।
তবে আজকের ম্যাচ নিয়ে একটা বড় শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে—আবহাওয়া। পাল্লেকেলেতে আজও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। আগেও দুইবার শ্রীলঙ্কার মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ ড্র হয়েছিল বৃষ্টির কারণেই। এবারও যদি এমন কিছু ঘটে, তাহলে টানা তৃতীয়বারের মতো ‘প্রায় জিতেও না জেতার’ হতাশা নিয়ে ফিরতে হতে পারে টাইগারদের।
অন্যদিকে, নিজেদের ঘরের মাঠে সিরিজ হাতছাড়া করতে চায় না শ্রীলঙ্কাও। দ্বিতীয় ম্যাচে হার তাদের কিছুটা চাপে ফেলেছে ঠিকই, তবে শেষ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় স্পষ্ট লঙ্কান শিবিরে। দুই দলের এই মুখোমুখি লড়াই এখন রূপ নিয়েছে এক রোমাঞ্চকর ফাইনালে।
প্রথম ম্যাচে যেখানে বাংলাদেশ ধাক্কা খেয়েছিল ব্যাটিংয়ে, সেখানে দ্বিতীয় ম্যাচে লঙ্কানরা ভুগেছে ব্যাট হাতে। তাই দুই দলের ব্যাটাররাই সিরিজের এই নির্ধারক ম্যাচকে সামনে রেখে দিয়েছেন বাড়তি মনোযোগ। মিরাজ, আসালাঙ্কারা অনুশীলনে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন সর্বোচ্চটা দেওয়ার জন্য। এবার শুধু সেটি মাঠে কাজে লাগানোর পালা।
শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং কোচ থিলিনা কান্দাম্বি এক বিবৃতিতে বলেন, “পাল্লেকেলের উইকেট কলম্বোর চেয়ে ভিন্ন, এটা আমরা সবাই জানি। বাংলাদেশ মাঝের ওভারগুলোতে দারুণ বোলিং করে, সেটি নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। আশা করি, ভালো কিছু হবে।”
তবে ভালো কিছু কার জন্য হবে, তা জানাবে আজকের ম্যাচ। ইতিহাস গড়ার সামনে বাংলাদেশ—শুধু দরকার আরেকটা পরিপূর্ণ পারফরম্যান্স। আর প্রাকৃতিক বাধা না এলেই, পাল্লেকেলের আকাশে আজ হয়তো টাইগারদের বিজয়গাথা লেখা থাকবে।

