টেস্টে হার, ওয়ানডে সিরিজেও পরাজয়ের গ্লানি। সেই ব্যর্থতার বোঝা মাথায় নিয়েই আজ শুরু হচ্ছে নতুন চ্যালেঞ্জ—টি-টোয়েন্টি সিরিজ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের প্রথম ম্যাচে আজ সন্ধ্যা ৭:৩০টায় ক্যান্ডির পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।
এই ম্যাচ শুধু একটি জয় নয়, গোটা দলের আত্মবিশ্বাস ফেরানোর লড়াই। অনেকদিন ধরে ছন্দহীন টাইগাররা এখন জয়ের খোঁজে মরিয়া। ব্যর্থতার পাহাড় পেরিয়ে একটু আলো দেখার আশা নিয়েই শুরু হচ্ছে এই সিরিজ।
ওয়ানডের শেষ দুই ম্যাচে একাদশের বাইরে থাকা লিটন দাসকে এবার টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্বে দেখা যাবে। তার কাঁধেই এখন ছন্দে ফেরার দায়িত্ব।
এবার দলে ফিরেছেন পূর্ণ শক্তির পেসাররা—তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলামরা সবাই ফিট। বিশেষ করে তাসকিনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পেস ইউনিট এখন আক্রমণাত্মক ও ধারালো। তবে ব্যাটসম্যানরা নিয়মিত ব্যর্থ হওয়ায় সেই ধারাটা সেভাবে মাঠে প্রকাশ পাচ্ছে না। ব্যাটারদের দায়িত্ব এবার আরও বেশি।
এই সিরিজ দিয়েই দীর্ঘ ১৩ মাস পর জাতীয় দলে ফিরছেন অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। হঠাৎ করে তার দলে ফেরার বিষয়ে অধিনায়ক লিটন বলেন, “আমার মনে হয় বাংলাদেশ অনেকদিন ধরেই একজন কার্যকর অলরাউন্ডার মিস করছিল। সাইফউদ্দিন সেই ঘাটতি কিছুটা পূরণ করতে পারে।”
বাংলাদেশ সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয় পেলেও এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো সহযোগী দেশের কাছেও হেরেছে। এরপর পাকিস্তানের কাছে হয়েছে হোয়াইটওয়াশ। একের পর এক হারে মনোবল যেন তলানিতে।
তবে পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশ ১৭টি মুখোমুখি লড়াইয়ে ৬ বার জয় পেয়েছে লঙ্কানদের বিপক্ষে। টি-টোয়েন্টিতে দুইবার ২০০’র বেশি রান করেছে বাংলাদেশ, এবং সেই দুই ম্যাচই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।
শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কা সিরিজ নিয়ে খুব বেশি আত্মতুষ্ট নন। তার মতে, “এই সিরিজ আমাদের জন্য সহজ হবে না। বাংলাদেশ দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো শক্তিশালী।”
তাদের দলের বড় ধাক্কা—অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা চোটের কারণে সিরিজ থেকেই ছিটকে গেছেন। তার অনুপস্থিতি স্বাগতিকদের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে লিটন দাস স্পষ্ট করে বলেন, “টি-টোয়েন্টি সিরিজ মানেই আলাদা ফরম্যাট, নতুন চ্যালেঞ্জ। সবাই জানে এই ফরম্যাটে কেমন খেলতে হয়। আমরা আমাদের ১০০% দেওয়ার চেষ্টা করব। তবে এটা সহজ হবে না।”
একটি জয় মাঝে মাঝে শুধু দুই পয়েন্ট নয়, পুরো দলের মনোবলের ফেরার রাস্তা খুলে দিতে পারে। ক্যান্ডির সন্ধ্যায় টাইগাররা সেই জয়টিই খুঁজবে। হার দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও শেষটা যেন ভালো হয়—এটাই এখন বাংলাদেশ দলের একান্ত চাওয়া।

