প্রথম টি-টোয়েন্টিতে হারের ধাক্কা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ দল। সাত উইকেটের সেই পরাজয়ের পর আজ ডাম্বুলায় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে লঙ্কানদের মুখোমুখি হবে লিটন দাসের দল। ম্যাচ শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে। সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে শ্রীলঙ্কা, অর্থাৎ আজকের ম্যাচ হারলেই এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ হাতছাড়া হবে টাইগারদের।
এরই মধ্যে টেস্ট আর ওয়ানডে সিরিজ হেরে এসেছে বাংলাদেশ। এবার যদি টি-টোয়েন্টি সিরিজটাও না জেতে, তাহলে পুরো সফরটাই হবে হতাশার। তাই আজকের ম্যাচ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ডু অর ডাই’—জিততেই হবে, নয়তো আবারও লজ্জাজনক পরিণতি।
প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দারুণ। পারভেজ হোসেন ইমন আর তানজিদ হাসান তামিম জুটিতে এনে দিয়েছিলেন স্বপ্নের শুরু। কিন্তু মিডল অর্ডারে এলোমেলো ব্যাটিংয়ে সেই শুরুটা কাজে লাগাতে পারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। লিটন, হৃদয় ব্যর্থতায় সংগ্রহ দাঁড়ায় মাত্র ১৫৪—যা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না।
আজকের ম্যাচে তাই সবচেয়ে বড় ভরসা হতে হবে ব্যাটারদের। উইকেট ব্যাবহার করতে হবে বুঝেশুনে, ভুল কমাতে হবে এবং ইনিংস লম্বা করতে হবে। কারণ স্পষ্ট—এই ম্যাচ জিততে না পারলে সিরিজ শেষ, আর একমাসের লম্বা সফর শেষ হবে হাত খালি নিয়েই।
২০১৭ সালের পর এই প্রথম শ্রীলঙ্কায় পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ। ক্রিকেটারদের সঙ্গে রয়েছে তাদের পরিবারও, মানসিক চাপের অজুহাত তেমন একটা থাকার কথা নয়। কিন্তু মাঠের বাস্তবতায় চিত্রটা অন্যরকম—পরাজয়, অস্থিরতা আর ব্যর্থতা।
লঙ্কান শিবিরে কিন্তু ঠিকই জমে উঠেছে আত্মবিশ্বাস। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের আগের দিন শ্রীলঙ্কার ফিল্ডিং কোচ উপুল চন্দনা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তারা আরও ভালো খেলার জন্য প্রস্তুত। পাল্লেকেলেতে প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েও সন্তুষ্ট নন, ডাম্বুলায় আরও উন্নত পারফরম্যান্স চান তারা। উইকেট নিয়েও আশাবাদী চন্দনা, জানিয়েছেন, ব্যাটিং-বোলিং দুটোই সাহায্য করবে এমন পিচ আশা করছেন।
এই মুহূর্তে চাপটা পুরোপুরি বাংলাদেশ শিবিরে। ম্যাচের আগে মাঠের বাইরের সেই চাপ গিয়ে পড়েছে ড্রেসিংরুমেও। কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে লিটনরা, সেটিই দেখার বিষয়। একটি জয়ই বদলে দিতে পারে দলের আত্মবিশ্বাস, আবার একটি হারই ডোবাতে পারে পুরো সফরের মানসিকতা।
আজ সন্ধ্যায় ডাম্বুলায় সিরিজের মোড় ঘুরবে নাকি বাংলাদেশ আবারও গা ছমছমে পরাজয়ের গল্প লিখবে—উত্তর পেতে অপেক্ষা আর কয়েক ঘণ্টার।

