কিংস্টনের সবুজ উইকেট যেন এক ভয়াল দুঃস্বপ্ন হয়ে এল ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য। অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের বোলিং ঝড়ে টিকতে পারলো না তারা, গুটিয়ে গেল মাত্র ১৪.৩ ওভারে ২৭ রানে—টেস্ট ইতিহাসে যা দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ইনিংস।
২০৪ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে মনে হচ্ছিল, হয়তো ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে স্বাগতিকরা। কিন্তু বাস্তবে যা ঘটলো, তা ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের ইতিহাসে এক লজ্জার অধ্যায় হয়ে থাকলো। একের পর এক উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত তারা থেমে যায় মাত্র ২৭ রানে। সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ইনিংসে এটিই তাদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন সংগ্রহ, আর টেস্ট ইতিহাসেরও দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দলীয় ইনিংস—মাত্র এক রান বেশি বলে নিউজিল্যান্ডের ২৬ রানের রেকর্ডটা অক্ষত রয়ে গেল।
টেস্ট ক্রিকেটের ১৪৭ বছরের ইতিহাসে মাত্র দুইবারই কোনো দল এর চেয়ে কম ওভারে অলআউট হয়েছে। ১৯২৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অলআউট হয়েছিল ১২.৩ ওভারে, আর ২০২৩ সালে শ্রীলঙ্কা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গুটিয়ে গিয়েছিল ১৩.৫ ওভারে। এবার সেই তালিকায় তিন নম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ—১৪.৩ ওভারে লজ্জাজনক পরিণতি।
এই ধ্বংসযজ্ঞের মূল নায়ক ছিলেন মিচেল স্টার্ক। বল হাতে মাত্র ৯ রান খরচ করে তুলে নেন ৬ উইকেট, তাও আবার মাত্র ১৫ বলেই! টেস্ট ইতিহাসে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পাঁচ উইকেট নেওয়ার নতুন এক রেকর্ড গড়েছেন তিনি।
তার সঙ্গে যোগ দেন স্কট বোল্যান্ড, যিনি মাত্র ২ রানে শিকার করেন ৩ উইকেট, যার মধ্যে ছিল একটি দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক। এক ওভারে টানা তিন বলে তিন ব্যাটার ফিরিয়ে দেন তিনি।
এই দুই পেসারের আগুনঝরা বোলিংয়ে একে একে সাজঘরে ফিরেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাত ব্যাটার শূন্য রানে।
এর মধ্য দিয়েই ১৭৬ রানের বিশাল জয় নিয়ে সিরিজের তৃতীয় টেস্টও নিজেদের করে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এর আগে ব্রিজটাউনে ১৫৯ ও পরের টেস্টে ১৩৩ রানে হারলেও, শেষ টেস্টে এমন একপেশে হার ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের জন্য সত্যিই হতাশাজনক।
এই হোয়াইটওয়াশের ফলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষে উঠেছে অস্ট্রেলিয়া। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ? তারা পড়ে রইলো হতাশা আর প্রশ্নবিদ্ধ ভবিষ্যতের গহ্বরে।
অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে করেছিল ২২৫ রান। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৪৩ রানে গুটিয়ে যায়। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে অজিরা করতে পারে মাত্র ১২১ রান। ফলে ২০৪ রানের লক্ষ্য পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু সেই লক্ষ্য যে রীতিমতো এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে, তা কেউ কল্পনাও করেনি।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দারুণ বল করেছিলেন শামার ব্রুকস ও আলজারি জোসেফ। কিন্তু দিন শেষে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন স্টার্ক-বোল্যান্ড। তাদের ভয়ানক স্পেলেই সমাপ্তি ঘটে কিংস্টন টেস্টের, আর সাথে ক্যারিবিয়ানদের সিরিজ অভিযানও।
ফ্রাঙ্ক ওরেল ট্রফি আগেই খোয়ানো ওয়েস্ট ইন্ডিজ শেষটায় পেল শুধু অপমানের ছিটেফোঁটা। এই হারের পর নতুন করে ভাবতে হবে ক্যারিবিয়ান ক্রিকেট কর্তাদের—কোথায় তারা হারাচ্ছে ধার, আত্মবিশ্বাস আর লড়াইয়ের মানসিকতা। কিংস্টন টেস্ট হয়তো সেই আত্মবিশ্লেষণের একটি কঠিন বার্তা হয়ে থাকবে।

