আইপিএলে বিরাট কোহলিকে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে পার্থিব প্যাটেলকে নেতৃত্বে আনার পরিকল্পনা করেছিলেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর তৎকালীন কোচ গ্যারি কারস্টেন। এমন বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করেছেন দলের সাবেক ইংলিশ অলরাউন্ডার মঈন আলী।
এক সাক্ষাৎকারে মঈন জানান, ২০১৯ সালে বেঙ্গালুরুর হয়ে খেলার সময় তিনি এ ধরনের আলোচনা প্রত্যক্ষ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, ‘‘আমার মনে হয় পার্থিব অধিনায়ক হতে যাচ্ছিল। গ্যারি কারস্টেনের পার্থিবকে অধিনায়ক করার পরিকল্পনা ছিল। ওর ক্রিকেট-মস্তিষ্ক দারুণ। তখন সেটাই আলোচনা হচ্ছিল। আমি জানি না পরে কী হয়েছিল বা কেন সেটা বাস্তবায়িত হয়নি, কিন্তু আমি নিশ্চিত তাকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হয়েছিল।’’
২০১৩ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত টানা নয় মৌসুম বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক ছিলেন কোহলি। তাঁর নেতৃত্বে দলটি মাঠে কখনও কখনও দুর্দান্ত খেললেও ধারাবাহিক সাফল্যের মুখ দেখেনি। কোহলির অধীনে দলটি একবার ফাইনালে উঠলেও (২০১৬), কখনও শিরোপা জেতেনি। বরং নয় মৌসুমের পাঁচবারই দল গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে পড়েছে।
বিশেষ করে ২০১৯ মৌসুমটি ছিল একেবারেই হতাশাজনক। সেবার বেঙ্গালুরু ১৪ ম্যাচে আটটিতেই হেরে পয়েন্ট তালিকার তলানিতে ছিল। এই সময় কোচ কারস্টেন অধিনায়কত্ব নিয়ে পরিবর্তনের কথা চিন্তা করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। কোহলির নেতৃত্ব থেকে সরানোর বিষয়টি তখনই উঠে এসেছিল।
পার্থিব প্যাটেল একসময় ভারতের জাতীয় দলে উইকেটরক্ষক-ব্যাটার হিসেবে খেললেও বেশি খ্যাতি পান ঘরোয়া ক্রিকেটে। ক্রিকেটীয় বিশ্লেষণে দক্ষ পার্থিব বর্তমানে গুজরাট টাইটানসের সহকারী কোচ এবং দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে দিল্লি ওয়ারিয়র্সের পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর নাম ওঠায় অনেকে বিস্মিত হলেও মঈনের দাবি, ক্রিকেট মস্তিষ্কের জন্যই তিনি নির্বাচনে গুরুত্ব পেয়েছিলেন।
২০১৯ সালে কোচ গ্যারি কারস্টেনও একটি সাক্ষাৎকারে দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কথা বলেছিলেন। তিনি মন্তব্য করেন, ‘‘কিছু গঠনমূলক পরিবর্তন প্রয়োজন, আমরা মালিকদের সঙ্গে বসে পরের বছরের জন্য তা নিয়ে আলোচনা করব।’’
পরে অবশ্য কোহলি নিজেই ২০২১ সালে আইপিএলের শুরুর আগেই নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন। এরপর দলটির অধিনায়কত্ব পান ফাফ ডু প্লেসি। ২০২৫ মৌসুমে তাঁকে ছাড়ার পর নেতৃত্বের দায়িত্ব পান রজত পাতিদার। তাঁর অধীনেই প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পায় বেঙ্গালুরু।

