ভারতের সবচেয়ে প্রভাবশালী ক্রীড়া সংস্থা বিসিসিআইয়ের (ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড) অফিস থেকে চুরি হয়েছে একসাথে ২৬১টি আইপিএল জার্সি—ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে সবাই। মুম্বাইয়ের অভিজাত এলাকায় অবস্থিত এই প্রধান কার্যালয় থেকেই চুরি গেছে জার্সিগুলো, যার বাজারমূল্য প্রায় ৯ লাখ টাকা (বাংলাদেশি মুদ্রায়)।
চুরির বিষয়টি প্রথম ধরা পড়ে গত ১৩ জুন। তখন বিসিসিআই অফিসে চলছিল নিয়মিত অডিট। কিন্তু গুদামে রাখা জার্সির হিসাব মেলাতে গিয়ে কর্মকর্তাদের চোখ কপালে ওঠে। এরপর তারা সিসিটিভি ফুটেজ ঘেঁটে যা দেখেন, তা যেন সিনেমার চিত্রনাট্য—একজন নিরাপত্তাকর্মী বাক্সভর্তি জার্সি নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে গুদাম থেকে!
এই ঘটনায় ১৭ জুন মুম্বাইয়ের মেরিন ড্রাইভ থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করে বিসিসিআই। পুলিশ তদন্তে নামে এবং এক পর্যায়ে গ্রেপ্তার করে অভিযুক্ত নিরাপত্তারক্ষী ফারুক আসলাম খানকে। জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক জানায়, সে অনলাইন জুয়ায় সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছিল। তাই আর কোনো উপায় না দেখে চুরির পথ বেছে নেয় সে।
তদন্তে উঠে এসেছে, চুরি হওয়া জার্সিগুলো বিক্রি করা হয়েছিল হরিয়ানার এক ব্যবসায়ীর কাছে। যদিও ব্যবসায়ীর দাবি—সে কিছুই জানত না, জার্সিগুলো চুরি করা।
তার ভাষ্যমতে, ফারুক তাকে জানিয়েছিল বিসিসিআই দপ্তরে সংস্কারের কাজ চলছে, তাই ঘর খালি করার অংশ হিসেবেই জার্সিগুলো বিক্রি করা হচ্ছে। দু’জনের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই।
পুলিশ ইতোমধ্যে সেই ব্যবসায়ীর ব্যাংক লেনদেন খতিয়ে দেখছে এবং তাঁর পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে তদন্তের স্বার্থে। তবে ইতোমধ্যে উদ্ধার করা গেছে অন্তত ৫০টি চুরি যাওয়া জার্সি।
এই ঘটনা শুধু বিসিসিআই নয়, গোটা ক্রীড়াপ্রেমী মহলকেই হতবাক করেছে। যেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এতটা কড়া হওয়ার কথা, সেখানে এমন চুরি কীভাবে সম্ভব হলো—এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সকলের মনে।

