ইউরোপের সেরা ক্লাব হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) যেন শেষ মুহূর্তে নাটকীয় এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে দিল। ইউরোপিয়ান সুপার কাপের ফাইনালে ৮৪ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও তারা ম্যাচকে পেনাল্টি শুটআউটে নিয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত শিরোপা ঘরে তোলে, আর সেই সাথে টটেনহ্যামের নতুন কোচ থমাস ফ্রাঙ্কের প্রথম ট্রফি জয়ের স্বপ্নও ভেঙে দেয়।
ইতালির উদিনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে জোয়াও পালিনহার দুর্দান্ত শট ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে, রিবাউন্ড থেকে মিকি ভ্যান ডে ভেন গোল করে টটেনহ্যামকে এগিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পেদ্রো পোরোর ফ্রি-কিক থেকে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর হেড পিএসজি গোলরক্ষক লুকাস শেভালিয়েরের হাতে লাগলেও জাল খুঁজে নেয়, ফলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়।
পিএসজির খেলোয়াড়রা তখনো যেন পুরো মৌসুমের ছুটি কাটিয়ে ফিরেছেন—কারণ ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ ফাইনালে চেলসির কাছে হারের মাত্র এক সপ্তাহ পর তারা অনুশীলনে নামে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাদের লড়াই ছিল চোখ ধাঁধানো। ২০ গজ দূর থেকে লি কাং-ইনের নিখুঁত শট ব্যবধান কমায়, আর ইনজুরি টাইমের চতুর্থ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় গনসালো রামোসের হেড ম্যাচটিকে সরাসরি পেনাল্টি শুটআউটে নিয়ে যায়।
শুটআউটে শুরুটা ভালো হয়নি পিএসজির—ভিতিনহার শট পোস্টের বাইরে যায়। তবে টটেনহ্যামের প্রথম গোলদাতা ভ্যান ডে ভেনের পেনাল্টি শেভালিয়ের দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন। এরপর ম্যাথিস টেল মিস করলে নুনো মেন্ডেস ঠান্ডা মাথায় জয়সূচক শটটি জালে জড়িয়ে দেন।
এতে টটেনহ্যামের হাতে ধরা ছোঁয়া দূরত্বে থাকা দ্বিতীয় ইউরোপীয় ট্রফি তিন মাসের ব্যবধানে ফসকে গেল। আর থমাস ফ্রাঙ্কের জন্য এটি ছিল এক মিশ্র অভিষেক—আনন্দদায়ক শুরুর পরও শেষ মুহূর্তে হার, যা হয়তো এই মৌসুমে তার দলের লড়াইয়ের মানসিকতার বড় পরীক্ষা হয়ে থাকবে।

