মাত্র ১০ বছর বয়সেই ব্রিটিশ এক কিশোরী দাবা খেলোয়াড় ইতিহাসের পাতায় নাম লিখলেন। উত্তর-পশ্চিম লন্ডনের বোধনা শিভানান্দন হয়েছেন বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী নারী দাবাড়ু, যিনি গ্র্যান্ডমাস্টারকে পরাজিত করেছেন।
গত রবিবার লিভারপুলে অনুষ্ঠিত ২০২৫ ব্রিটিশ চেস চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ রাউন্ডে ৬০ বছর বয়সী গ্র্যান্ডমাস্টার পিট ওয়েলসকে হারিয়ে এই সাফল্য অর্জন করেন তিনি। এ সময় বোধনার বয়স ছিল ১০ বছর ৫ মাস ৩ দিন।
এর আগে এই রেকর্ড ছিল আমেরিকান দাবাড়ু ক্যারিসা ইয়িপের দখলে। তিনি ২০১৯ সালে ১০ বছর ১১ মাস ২০ দিন বয়সে প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টারকে হারান। আন্তর্জাতিক দাবা ফেডারেশন (ফিদে) জানিয়েছে, বোধনা সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক গড়লেন।
এই জয়ের ফলে বোধনা এখন নারী আন্তর্জাতিক মাস্টার খেতাব অর্জন করেছেন। এটি নারী গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়ার ঠিক আগের ধাপ। দাবার সর্বোচ্চ খেতাব গ্র্যান্ডমাস্টার, যা বর্তমানে ভারতীয় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন গুকেশ দুম্মারাজু এবং নরওয়ের ম্যাগনাস কার্লসেনের মতো কিংবদন্তিদের হাতে রয়েছে।
অদ্ভুত ব্যাপার হলো, বোধনার পরিবারে আগে কেউই দাবায় বিশেষ পারদর্শী ছিলেন না। ২০২৪ সালে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তার বাবা বলেছিলেন, তাদের পরিবারে “একেবারেই কেউ দাবায় ভালো ছিলেন না।”
কোভিড মহামারির সময় যখন বোধনার বয়স মাত্র পাঁচ, তখনই দাবার সঙ্গে তার প্রথম পরিচয়। বাবার এক বন্ধু তাদের কিছু খেলনা ও বই উপহার দিয়েছিলেন। তার মধ্যেই ছিল একটি দাবার বোর্ড। বোধনা পরে স্মৃতিচারণ করে বলেন—
“আমি প্রথমে ভেবেছিলাম দাবার গুটিগুলো খেলনা হিসেবে ব্যবহার করব। কিন্তু বাবা বললেন, এগুলো দিয়ে আমি আসল খেলাটিই শিখতে পারি। সেখান থেকেই শুরু।”
আজ সেই শখই তাকে পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বদাবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। মাত্র এক দশক বয়সেই তিনি হয়ে উঠেছেন নারী দাবা ইতিহাসের অনন্য এক তারকা।

