বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছেন, “আমাদের মূল দায়িত্ব হলো ক্রিকেটকে রক্ষা করা। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট—সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ক্রিকেটকে নিরাপদ রাখা।” তিনি জানান, ঘরোয়া ক্রিকেট শুরুর আগে খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ কর্মশালা বা শিক্ষামূলক ক্লাস নেওয়া হবে।
প্রথম ধাপ হিসেবে আসন্ন জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) খেলোয়াড়দের জন্য এই কর্মশালা আয়োজন করা হবে। বুলবুল বলেন, “এনসিএলে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের সবাইকে অ্যান্টি-করাপশন কোড অব কন্ডাক্ট বিস্তারিতভাবে বাংলায় বোঝানো হবে। তাদের একটি ফর্মে স্বাক্ষর করতে হবে, তারপরই তারা খেলতে পারবে।”
তৃতীয় বিভাগীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। বুলবুল আরও বলেন, “অক্টোবর থেকে তৃতীয় বিভাগীয় খেলা শুরু হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো বিসিবির তহবিলে যত টুর্নামেন্ট হবে, সবখানেই খেলোয়াড়দের অ্যান্টি-করাপশন নীতি শেখানো। তারা বিষয়গুলো পড়বে, বুঝবে এবং স্বাক্ষর করবে, তারপর খেলতে পারবেন। প্রথমে আমরা এনসিএল দিয়ে শুরু করব, এরপর তৃতীয় বিভাগের সব দলকে শেখানো হবে। এতে সবাই জানতে পারবে, খেলায় নৈতিকতার গুরুত্ব কী।”
এছাড়া বুলবুল জানান, এই পরিকল্পনায় খেলোয়াড়, কোচ ও আম্পায়ারদের সম্পূর্ণভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, “খেলাকে রক্ষা করার জন্য আমরা খেলোয়াড়, কোচ ও আম্পায়ারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকব। তবে এর বাইরের বিষয়গুলো নিয়ে গণমাধ্যমের মাধ্যমে ক্যাম্পেইন চালিয়ে খেলাধুলার নীতি, নৈতিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় দিকগুলো প্রচার করা হবে। আমরা চেষ্টা করব ক্রিকেটকে নিরাপদ রাখার, আশা করি আপনরাও (গণমাধ্যম) এ প্রচেষ্টায় সাহায্য করবেন।”
বাংলাদেশ ক্রিকেটে দুর্নীতি ও অনৈতিক আচরণের বিরুদ্ধে বিসিবির এই উদ্যোগ নতুন দিকনির্দেশনা হিসেবে ধরা হচ্ছে। খেলোয়াড়দের জন্য এই শিক্ষামূলক কর্মশালা ভবিষ্যতে ঘরোয়া ক্রিকেটকে আরও স্বচ্ছ এবং নৈতিকভাবে শক্তিশালী করার লক্ষ্য রাখছে।