আগামী বছরের জুনে শুরু হচ্ছে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় উৎসব—ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। এবার প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করছে এই আসর, যেখানে আগের যেকোনোবারের চেয়ে বেশি—মোট ৪৮টি দল মাঠে নামবে। এখনও চলছে টানটান উত্তেজনার বাছাইপর্ব, তবে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি দেশ নিশ্চিত করেছে তাদের বিশ্বকাপের টিকিট।
এশিয়া
এশিয়া থেকে ইতোমধ্যেই নিশ্চিত হয়েছে অস্ট্রেলিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, জর্ডান, উজবেকিস্তান ও ইরান। এশিয়ার ভাগ্য তালিকায় এখনও দুটি সরাসরি আসন খালি আছে। পাশাপাশি আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ থেকে আরও একটি দল সুযোগ পাবে মূল আসরে খেলার।
কনকাকাফ (উত্তর ও মধ্য আমেরিকা)
আয়োজক দেশ হিসেবে স্বাভাবিকভাবেই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে। তবে এখানকার বাকি দলগুলোর জন্য লড়াই এখনও শেষ হয়নি। নভেম্বরে শেষ হবে তৃতীয় রাউন্ডের বাছাইপর্ব, যেখানে কোস্টারিকা, হন্ডুরাস, জ্যামাইকা প্রভৃতি দল মরিয়া হয়ে লড়ছে বিশ্বকাপে নাম লেখানোর জন্য।
দক্ষিণ আমেরিকা (কনমেবল)
দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চল সবসময়ই বিশ্বকাপে নজরকাড়া। ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা তো আগেই জায়গা নিশ্চিত করেছে। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে কলম্বিয়া, উরুগুয়ে, ইকুয়েডর ও ১৬ বছর পর ফিরে আসা প্যারাগুয়ে। তবে এখানেই শেষ নয়—প্লে-অফে মুখোমুখি হবে ভেনেজুয়েলা ও বলিভিয়া, তাদের মধ্যে একজন নিশ্চিত করবে বিশ্বকাপের টিকিট।
ওশেনিয়া
ওশেনিয়া অঞ্চলের প্রতিনিধি হিসেবে নিউজিল্যান্ড নিশ্চিত করেছে তাদের উপস্থিতি।
আফ্রিকা
আফ্রিকা মহাদেশ থেকে প্রথম দল হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে মরক্কো। তবে এখানকার কোটা অনেক বড়—বাছাইপর্ব ও প্লে-অফ মিলিয়ে আরও আটটি দল বিশ্বকাপের টিকিট পাবে।
ইউরোপ
সবচেয়ে বেশি প্রতিযোগিতামূলক অঞ্চল ইউরোপেই এখনও বাছাইপর্ব পুরোপুরি জমে ওঠেনি। ম্যাচ সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকায় আশা করা হচ্ছে, ড্রয়ের আগেই বেশিরভাগ দল নিশ্চিত হয়ে যাবে বিশ্বকাপের মঞ্চে।
ফুটবল ভক্তদের চোখ এখন বাছাইপর্বের দিকেই। কারা নতুনভাবে আসবে, কারা পুরনো তারকাদের সঙ্গে বিশ্বমঞ্চ মাতাবে—সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে আগামী কয়েক মাসেই। তবে নিশ্চিত হওয়া দলগুলোর নামই প্রমাণ করে, আসন্ন বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ভরপুর উত্তেজনা আর চমকে ভরা এক উৎসব।

