হংকংয়ের বিপক্ষে আগের সেই একমাত্র ম্যাচে হারের তিক্ত স্মৃতি থাকলেও এবারের এশিয়া কাপে বাংলাদেশ মাঠে নেমেছিল স্পষ্ট ফেভারিট হয়ে। আবুধাবির আবু জায়েদ স্টেডিয়ামে গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচেই সেই আস্থার প্রতিফলন ঘটাল লিটন দাসের দল। দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর ব্যাট হাতে সুনিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে টাইগাররা জয় পেল ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে।
বোলিংয়ে শুরুর ধাক্কা
টস জিতে আগে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। বল হাতে শুরুটা করেন তাসকিন আহমেদ, এবং ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট তুলে নেন। মাত্র ৪ রান করে ফেরেন হংকং ওপেনার অংশুমান রাথ। পরে বাবর হায়াতকে (১৪) বোল্ড করেন তরুণ পেসার তানজিম সাকিব। তিনিই ভাঙেন জিসান আলী ও নিজাকাত খানের গড়া ৪১ রানের জুটি। জিসান ফেরেন ৩০ রানে।
হংকংয়ের হয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন নিজাকাত খান—৪২ রানের ইনিংস খেলে খানিকটা ভরসা দেন দলকে। অধিনায়ক ইয়াসিম মুর্তুজা কিছুটা আক্রমণাত্মক ছিলেন, করেন ১৯ বলে ২৮ রান। তবে তিনিও রানআউট হলে আবার ভেঙে পড়ে ইনিংস। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে হংকং, শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ১৪৩। বাংলাদেশের হয়ে তানজিম সাকিব ২ উইকেট নেন, তাসকিন ও রিশাদ হোসেনও শিকার করেন দুটি করে।

ব্যাটিংয়ে লিটনের নেতৃত্ব
১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ঝড়ো সূচনা এনে দেন ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন। ১৪ বলে ১৯ রান করে ফেরেন তিনি। এরপর লিটন দাসের সঙ্গে যোগ দেন তানজিদ তামিম। তবে তিনিও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি—১৮ বলে ১৪ রানের পর বিদায় নেন।
দল কিছুটা চাপে পড়লেও তা কাটিয়ে ওঠেন লিটন ও তাওহীদ হৃদয়। ধীরে ধীরে ইনিংস গড়ে তোলেন দুজন, তুলে নেন ৯৫ রানের দারুণ জুটি। ইনিংসের মাঝামাঝি সময়ে খানিকটা ধীরগতির হলেও শেষ পর্যন্ত সেটিই হয়ে ওঠে ম্যাচ জয়ের ভিত্তি।
লিটন নিজের ইনিংসকে সাজান দারুণভাবে। মাত্র ৩৩ বলে ফিফটি তুলে নেন তিনি, আর ৩৯ বলে করেন ৫৯ রান। ছয়টি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো ইনিংসের পর বাংলাদেশ যখন জয় থেকে মাত্র ২ রান দূরে, তখন আউট হন লিটন। কাজ শেষ করেন হৃদয়, অপরাজিত থাকেন ৩৫ রানে। ১৪ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।
নতুন রেকর্ডে লিটন
এদিন ব্যাট হাতে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি রেকর্ডবইয়েও নতুন অধ্যায় যোগ করেছেন লিটন দাস। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ৭৭ ছক্কার রেকর্ড টপকে বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ ছক্কার মালিক হয়েছেন তিনি। ১১১তম ম্যাচে লিটনের ছক্কার সংখ্যা দাঁড়াল ৭৮। রানসংগ্রাহকের তালিকাতেও তিনি এখন দ্বিতীয়, সাকিব আল হাসানের পরই।
এশিয়া কাপে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ডও গড়লেন লিটন ও হৃদয়। দুজন মিলে গড়েন ৯৫ রানের জুটি, যা ২০১৬ সালে সাকিব-সাব্বিরের ৮২ রানের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।
প্রথম ম্যাচে জয় পেয়ে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ এখন তাকিয়ে শনিবারের দিকে। প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা—গ্রুপপর্বে যে ম্যাচে জয় নিশ্চিত করতে পারলেই সুপার ফোরের দরজা আরও উন্মুক্ত হবে টাইগারদের সামনে।

