বাংলাদেশ টেস্ট দলের নতুন অধিনায়ক নিয়ে চলা রহস্য এখন প্রায় শেষের পথে। দীর্ঘ আলোচনার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আপৎকালীন অধিনায়ক হিসেবে লিটন কুমার দাসের নামেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি পাঁচতারকা হোটেলে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের ফাঁকে অনুষ্ঠিত হয় একটি বিশেষ বৈঠক। এই বৈঠকেই মূলত নির্ধারিত হয় টেস্ট অধিনায়ক নির্বাচন নিয়ে বোর্ডের দিকনির্দেশনা।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সহসভাপতি ফারুক আহমেদ, ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম, এবং পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক—সাবেক চার অভিজ্ঞ ক্রিকেটার এখন বোর্ডের দায়িত্বে থাকা এই চতুষ্টয়ই মূল আলোচনায় অংশ নেন।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে তারা নিজেদের মধ্যে মত বিনিময় করে লিটন দাসকে আপৎকালীন টেস্ট অধিনায়ক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিসিবির প্রথম পছন্দ ছিলেন মুমিনুল হক। তিনি আগেও দেশের টেস্ট দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সংকটের সময়। ২০১৯ সালে সাকিব আল হাসান নিষিদ্ধ হওয়ার পর তিনিই দায়িত্ব নিয়েছিলেন, আর তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশ জিতেছিল নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচ।
তবে দ্বিতীয়বার দায়িত্ব নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন মুমিনুল। কয়েক দিন আগে তিনি নিজেই গণমাধ্যমে বলেছেন, “আমি এখন নতুন করে সেই দায়িত্ব নিতে চাই না।”
টেস্ট নেতৃত্বের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আরও ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে শান্তকে আপাতত টেস্ট নেতৃত্বের জন্য বিবেচনা করা হয়নি, আর মিরাজের ওয়ানডে অধিনায়কত্ব নিয়ে সমালোচনার কারণে তাঁর নামও তালিকা থেকে বাদ পড়ে।
ফলে বাকি থাকে একটাই নাম—লিটন দাস। তাঁর ধারাবাহিকতা নিয়ে বোর্ডের কিছু সংশয় থাকলেও অভিজ্ঞতা, ম্যাচ সচেতনতা ও দলের মধ্যে প্রভাব বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত তাঁর দিকেই ঝুঁকেছেন বিসিবির কর্মকর্তারা।
একজন পরিচালক বলেন, “লিটন নিয়মিত পারফর্ম করলে আমাদের আর ভাবতে হতো না। ওর মধ্যে নেতৃত্বের গুণ আছে, তবে ধারাবাহিকতা দরকার।”
বৈঠক শেষে এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাজমুল আবেদীন ফাহিম বলেন,
“আমরা ক্রিকেটার হিসেবে বসে কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। এটি কোনো আনুষ্ঠানিক বোর্ড মিটিং ছিল না। শুধু ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্ত নিয়েই আলোচনা হয়েছে—এর বাইরে অন্য কিছু নয়।”
তবে বোর্ডের ভেতরের সূত্র নিশ্চিত করেছে, এই বৈঠকের মূল বিষয়ই ছিল টেস্ট দলের নেতৃত্ব নির্ধারণ।
গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর সময় ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগে একটি টেকনিক্যাল কমিটি ছিল, যারা জাতীয় দলের চুক্তি, কোচিং স্টাফ ও নির্বাচক প্যানেল নিয়ে সুপারিশ করত। তবে এবার নতুন কোনো উপকমিটি না করে সরাসরি স্ট্যান্ডিং কমিটির শূন্যপদগুলো পূরণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
টেস্ট দলের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ—অভিজ্ঞদের বিদায়, তরুণদের অনিশ্চয়তা আর পারফরম্যান্সের ওঠানামার মধ্যে নতুন করে দলকে গুছিয়ে নেওয়া। এমন সময়ে নেতৃত্বে আসছেন লিটন দাস, যিনি নিজের ব্যাটিং ফর্মে ফিরতে পারলে হয়তো নতুন উদ্যমে টেস্ট দলকেও ফিরিয়ে দিতে পারেন জয়ের পথে।

