হামজা চৌধুরী, শমিত হোসেন ও ফাহমিদুলদের আগমনে যেন নতুন প্রাণ পেয়েছে বাংলাদেশের ফুটবল। এক সময়ের মৃতপ্রায় খেলা এখন দর্শকদের নতুন উচ্ছ্বাসে মুখর। সাম্প্রতিক সিঙ্গাপুর ও হংকং ম্যাচেই দেখা গেছে সেই জোয়ার—টিকিটের জন্য দর্শকদের লাইন, উন্মাদনা আর আশায় ভরা মুখ।
এই উত্তেজনার মধ্যেই সামনে আসছে আরও বড় লড়াই—১৮ নভেম্বর ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে মাঠে নামবে বাংলাদেশ ও ভারত। দুই দলই বাছাইপর্ব থেকে ছিটকে গেলেও, প্রতিপক্ষ ভারত বলেই ম্যাচটি ঘিরে আগ্রহ তুঙ্গে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে।
কিন্তু সেই আগ্রহকেই এখন কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। কারণ, ভারতের বিপক্ষে এই ম্যাচের টিকিটের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
বাফুফের টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান গোলাম গাউস জানিয়েছেন, সোমবার (১০ নভেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু হবে। এবার গ্যালারির টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ টাকা।
টিকিট বিক্রি হবে ৯টি ক্যাটাগরিতে—গ্যালারি ৫০০ টাকা, ক্লাব হাউজ ৫০০০ ও ৩০০০ টাকা, ভিআইপি ৪০০০ ও ৩০০০ টাকা, রেড বক্স ৬০০০ টাকা, করপোরেট বক্স ৮০০০ টাকা, স্কাই বক্স ৮০০০ এবং স্কাই ভিউ ৭০০০ টাকা। সব টিকিট পাওয়া যাবে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম Quicket.me-তে।
বাফুফের কম্পিটিশন কমিটির সদস্য তাজওয়ার আউয়াল গণমাধ্যমকে বলেন, “ভারতের বিপক্ষে টিকিটের চাহিদা সব সময়ই বেশি থাকে। সেই আগ্রহকে বিবেচনা করেই এবার টিকিটের দাম সামান্য বাড়ানো হয়েছে। তবে খুব বেশি নয়।”
দর্শকদের একাংশ মনে করছেন, ভারতের মতো বড় দলের বিপক্ষে ম্যাচের টিকিট দাম বাড়ানো যৌক্তিক। কারণ, এমন ম্যাচগুলোতে নিরাপত্তা, আয়োজন ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনায় খরচও বেড়ে যায়। তবে অনেকেই ক্ষোভও প্রকাশ করছেন—তাদের মতে, সাধারণ গ্যালারির টিকিটের দাম বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা ফুটবলপ্রেমী শ্রমজীবী মানুষের জন্য কষ্টকর।
সব সমালোচনা ছাপিয়ে একটাই সত্য—বাংলাদেশ ফুটবল এখন নতুন করে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। হামজা চৌধুরী ও তার সহযোদ্ধাদের নেতৃত্বে মাঠে ফিরেছে লড়াইয়ের মানসিকতা, ফিরেছে দর্শকের ভালোবাসা।
হংকংয়ের বিপক্ষে ড্র কিংবা ভারতের মাটিতে হার এড়ানোর লড়াই—সব কিছু মিলিয়ে দলটিতে এসেছে আত্মবিশ্বাসের নতুন রূপ।
১৮ নভেম্বর রাত ৮টায় শুরু হবে এই মর্যাদার ম্যাচ। দর্শকদের প্রত্যাশা একটাই—ঘরের মাঠে বদলে যাওয়া বাংলাদেশ যেন প্রতিপক্ষ ভারতকে এবার হারাতে পারে।

