ইডেন গার্ডেনে সিরিজের প্রথম টেস্টটা শুরু হয়েছিল ভারতের নিয়ন্ত্রণেই। স্পিন সহায়ক উইকেটে চারজন বিশেষজ্ঞ স্পিনার নিয়ে নামা স্বাগতিকরা দক্ষিণ আফ্রিকাকে মাত্র ১২৩ রানের লক্ষ্যেই থামিয়ে দিয়েছিল। সেই অবস্থায় জয় হাতের মুঠোতেই—এমনটাই মনে হচ্ছিল। কিন্তু ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায় ঠিক অধিনায়ক শুভমান গিল ইনজুরিতে ছিটকে পড়ার পর। ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ যেন মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে এবং মাত্র ১০ জন নিয়ে চতুর্থ ইনিংসে নেমে নিজেদের বানানো ফাঁদেই আটকে যায় তারা।
দক্ষিণ আফ্রিকার দুই স্পিনার—সাইমন হারমার ও কেশভ মহারাজ—ভারতের ব্যাটারদের এমনভাবে চেপে ধরেন যে ১২৩ রানের ছোট লক্ষ্যটাও পাহাড় সমান মনে হয়। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৯৩ রানে অলআউট হয়ে ৩০ রানে ম্যাচ হারে ভারত। দীর্ঘ ১৫ বছর পর ভারতের মাটিতে টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল প্রোটিয়ারা। গ্রায়েম স্মিথের দল ২০১০ সালে নাগপুরে সর্বশেষ এমন জয় পেয়েছিল।
প্রোটিয়া অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা পুরো ম্যাচজুড়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে দল যখন একের পর এক উইকেট হারাচ্ছিল, তিনি একপ্রান্ত আগলে ৫৫ রানে অপরাজিত থেকে দলকে ১৫৩ রানে পৌঁছে দেন—যা ম্যাচের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহও। কঠিন উইকেটে মাত্র আড়াই দিনেই শেষ হয়ে যায় টেস্ট, আর উইকেটের মান নিয়েও দিনভর আলোচনা হয়।
রোববার তৃতীয় দিনের খেলা শুরুর আগেই বিসিসিআই নিশ্চিত করে—গিল আর মাঠে নামতে পারবেন না। ফলে লক্ষ্য তাড়ায় ভারত কার্যত ১০ জন নিয়েই ব্যাট করতে নামে। উইকেট পতনের মিছিলে একমাত্র স্বীকৃত ব্যাটার হিসেবে অক্ষর প্যাটেল কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। মহারাজের প্রথম চার বলে দুই ছক্কা ও এক চার মেরে চাপ সরানোর চেষ্টা করলেও স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে বাভুমার হাতে ধরা পড়ে ফেরেন তিনি।
শেষ ব্যাটার হিসেবে নামা মোহাম্মদ সিরাজ টিকতে পারেন মাত্র এক বল। আউটসাইড এজ হয়ে স্লিপে ক্যাচ দিলে তৃতীয় আম্পায়ারের নিশ্চিতকরণের আগেই দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়রা উদযাপন শুরু করে দেন। শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তই আসে—আউট সিরাজ। সিরিজে ১–০ তে লিড নেয় বাভুমার দল।
ম্যাচসেরা হন সাইমন হারমার। দুই ইনিংস মিলিয়ে তাঁর শিকার ৮ উইকেট। ভারতের পক্ষে ওয়াশিংটন সুন্দরের ৩১ ও অক্ষরের ২৬ ছাড়া আর কেউ দাঁড়াতেই পারেননি। ছোট লক্ষ্য, কিন্তু কঠিন পিচে সেটাই যথেষ্ট করে তোলে প্রোটিয়াদের স্পিন ত্রাস।
ভারতের মাটিতে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন লক্ষ্য ডিফেন্ড করে জয়ের নজির গড়ল দক্ষিণ আফ্রিকা। এর আগে ২০০৪ সালে ওয়ানখেড়েতে মাত্র ১০৭ রানের লক্ষ্য রক্ষা করে অস্ট্রেলিয়া জয় পেয়েছিল। প্রোটিয়াদের জন্যও এটি ইতিহাস—নিজেদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন টার্গেট ডিফেন্ড করে টেস্ট জয়ের কীর্তি।
প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা করেছিল ১৫৯, ভারত তুলেছিল ১৮৯—৩০ রানের লিডও তাই শেষ পর্যন্ত কোনো কাজে লাগেনি। কঠিন, ধুলোবালিমাখা ইডেনের উইকেটে ব্যর্থতার দায়ভার তাই পুরো ব্যাটিং ইউনিটেরই।

