২০২৬ সালের ছেলেদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করতে যাচ্ছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা। এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশেরও। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে নতুন মোড় দিয়েছে।
নিরাপত্তা ইস্যুকে সামনে রেখে ভারতে কোনো ম্যাচ খেলতে চায় না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এ বিষয়ে বিসিবি ও সরকারের অবস্থান বেশ কঠোর। তবে এই সিদ্ধান্তে অনড় থাকলে বাংলাদেশকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে।
বিশেষ করে এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রেকর্ড পরিমাণ প্রাইজমানি ঘোষণা আসার সম্ভাবনা থাকায় বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্বকাপের সময়সূচি ও প্রাইজমানি
২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের দশম আসর।
২০টি দলের অংশগ্রহণে টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হবে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত।
এবারের বিশ্বকাপে মোট প্রাইজমানি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার, যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। গত আসরে মোট প্রাইজমানি ছিল ১ কোটি সাড়ে ১২ লাখ ডলারের কিছু বেশি।
পুরস্কারের অর্থ কত বাড়ছে?
২০২৪ সালের বিশ্বকাপে—
-
চ্যাম্পিয়ন দল পেয়েছিল ২৪.৫ লাখ ডলার
-
রানার্সআপ পেয়েছিল ১২.৮ লাখ ডলার
-
সেমিফাইনালিস্টরা পেয়েছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার
-
পঞ্চম থেকে দ্বাদশ স্থান পাওয়া দলগুলো পেয়েছিল ৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার
-
প্রতিটি দলের অংশগ্রহণ ফি ছিল ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার
২০২৬ সালে এই অঙ্কগুলো আরও বাড়ছে—
-
অংশগ্রহণ ফি ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ডলার
-
পঞ্চম থেকে দ্বাদশ স্থানের জন্য ৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার
-
চ্যাম্পিয়নদের জন্য ৩০ লাখ ডলার
-
রানার্সআপের জন্য ১৬ লাখ ডলার
-
সেমিফাইনালিস্টদের জন্য ৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার
এই হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ যদি বিশ্বকাপে অংশই না নেয়, তাহলে ন্যূনতম ৩ লাখ ডলার সরাসরি হারাবে। এর বাইরে ম্যাচ ফি, সম্প্রচার আয় ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা তো থাকছেই।
গ্রুপ ও প্রতিপক্ষ
২০২৪ সালের মতো এবারও ২০টি দল অংশ নিচ্ছে, যাদের ৪টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ রয়েছে ‘সি’ গ্রুপে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ—
-
ইংল্যান্ড
-
ওয়েস্ট ইন্ডিজ
-
নেপাল
-
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলা ইতালি
নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বিসিবি ইতিমধ্যে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। তবে আইসিসি এখনো মূল সূচি ও ভেন্যু অনুযায়ীই এগোচ্ছে।
বাংলাদেশ যদি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তে অটল থাকে, তাহলে শুধু প্রাইজমানিই নয়—
পরের বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
আইসিসি এখনো পরবর্তী বিশ্বকাপের ফরম্যাট ঘোষণা না করলেও, বাছাইপর্বে খেলতে হওয়ার শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এর প্রভাব পড়তে পারে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ভারতের বিপক্ষে সম্ভাব্য হোম সিরিজেও। সে ক্ষেত্রে ভারতও সিরিজ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিতে পারে। আর তা হলে বাংলাদেশ সবচেয়ে লাভজনক দ্বিপক্ষীয় সিরিজ থেকে বঞ্চিত হয়ে বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে।

