বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ তুলে সম্প্রতি ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। এর পরপরই বিষয়টি আরও দূর গড়ায়। বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে ভারতের আদালতে একটি পিটিশন দায়ের করা হয়। তবে সেই আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় বলে সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন দিল্লির হাইকোর্ট।
বুধবার প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজাস কারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটির প্রাথমিক শুনানিতেই এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, আবেদনে যেসব দাবি তোলা হয়েছে সেগুলো মূলত ভারতের বৈদেশিক নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট—যা বিচার বিভাগের নয়, বরং নির্বাহী বিভাগের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়।
বেঞ্চের মন্তব্য ছিল বেশ কড়া। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, এ ধরনের পিটিশন আদালতের সময় নষ্ট করার শামিল। বিদেশি রাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক সংস্থা কিংবা অন্য দেশের ক্রীড়া বোর্ডকে ঘিরে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আদালতের নেই—এ কথাও পরিষ্কারভাবে বলা হয়।
প্রধান বিচারপতি তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, ভারতীয় সংবিধানের ২২৬ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় রিট এখতিয়ার থাকলেও তা বিদেশি সরকার, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থা বা অন্য দেশের ক্রিকেট বোর্ডের ওপর প্রযোজ্য নয়। এসব বিষয় মূলত কূটনীতি, বৈদেশিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক সমঝোতার সঙ্গে জড়িত, যা সরাসরি নির্বাহী বিভাগের দায়িত্ব।
শুনানিতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি আদালতকে জানান, আবেদনটিতে কোনো আইনগত ভিত্তি ছাড়াই বিদেশি ক্রিকেট বোর্ডগুলোকে পক্ষভুক্ত করা হয়েছে, যা আইনগতভাবে টেকসই নয়।
আদালতের এই তীব্র আপত্তির মুখে আবেদনকারী শেষ পর্যন্ত পিটিশনটি প্রত্যাহারের আবেদন জানান। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে পিটিশনটি প্রত্যাহার হিসেবে খারিজ করে দেন।
এই রায়ের মাধ্যমে দিল্লির হাইকোর্ট কার্যত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, বিদেশি রাষ্ট্র কিংবা কূটনৈতিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া আদালতের কাজ নয়। এসব বিষয় সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের আওতাভুক্ত, বিচার বিভাগের নয়।

