টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের অনিশ্চয়তাএখনও কাটেনি। বুধবার (২১ জানুয়ারি) আইসিসির বোর্ড সভায় স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—যদি বাংলাদেশ ভারত সফরে না যায় এবং বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করে, তবে তাদের জায়গায় বিকল্প দল হিসেবে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এখনো বিকল্প পথ খুঁজছে। যদি আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাদের পক্ষে না হয়, তবে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত (সিএএস)-এর দ্বারস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও রাখছে বোর্ড।
২০২৫ সালের মে মাসে বিসিবির সভাপতি দায়িত্ব নেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আইসিসি এবং অন্যান্য ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ আছে। বোর্ডের লক্ষ্য হলো এই সম্পর্ক ব্যবহার করে সমমনা পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর সমর্থন আদায় করা।
সুরক্ষা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে বিসিবি ভারতের ভেতরে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলার অনীহা জানিয়েছে। তারা চেয়েছে বাংলাদেশের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কা হতে হবে। তবে আইসিসি তাদের অবস্থানে অনড়। বোর্ড সভায় এই বিষয় নিয়ে ভোটাভুটি হয়, যেখানে বেশিরভাগ ভোট বাংলাদেশের বিপক্ষে পড়ে।
বাংলাদেশকে একদিনের সময় দেওয়া হয়েছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের জানাতে হবে, তারা ভারতে খেলবে কি খেলবে না।
ক্রীড়া উপদেষ্টা জানিয়েছিলেন, “আইসিসি যদি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের চাপের কারণে অযৌক্তিক কোনো শর্ত চাপিয়ে দেয়, আমরা তা মেনে নেব না।”
বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন দাসও গতকাল অনিশ্চয়তার সুর প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন,
“আপনারা জানেন কোন ১৫ জন বিশ্বকাপে যাবে। কিন্তু তারা এখনও জানে না কোন দেশে খেলবে বা কাদের বিপক্ষে খেলবে। আমি যেমন অনিশ্চয়তায় আছি, সবাই একই অবস্থায়।”
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিসিবি এবং আইসিসির মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে আরেকটি সভা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আইসিসি বাংলাদেশের জন্য ভারতের সর্বোচ্চ ‘জেড’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছে, যা মূলত বোর্ডকে রাজি করানোর প্রচেষ্টা। তবে বাংলাদেশ এখনও ভারতে খেলার বিষয়ে রাজি নয়।
বিসিবির বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, আইসিসির দুবাই সদর দপ্তরের ৭৬ জন কর্মীর মধ্যে ৫৮ জন ভারতীয়। চেয়ারম্যান, সিইও, কমার্শিয়াল, মিডিয়া, ইভেন্টস, ব্রডকাস্ট, স্ট্র্যাটেজি ও মার্কেটিং বিভাগের বেশিরভাগ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ভারতীয়। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের চাওয়া পূরণ হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
তবে বাংলাদেশকে যদি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয়, আইনি পদক্ষেপের সুযোগ রাখছে বিসিবি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাদের পক্ষে না হলে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতের (সিএএস) দ্বারস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও সক্রিয় রয়েছে।

