জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের (ডিএফবি) একজন নির্বাহী কমিটি সদস্য বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের কারণে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ বয়কট বিষয়ে গুরুত্বসহকারে আলোচনা করা দরকার। সূত্র: হামবুর্গার মর্গেনপোস্ট
দাবিটি তুলেছেন ওকে গটলিশ, যিনি বুন্দেসলিগার ক্লাব সেন্ট পাউলির সভাপতি এবং ডিএফবির ১০ জন সহসভাপতির একজন। হামবুর্গার মর্গেনপোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়টি ‘গুরুত্বসহকারে বিবেচনা ও আলোচনা’ করার সময় এসেছে।
ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রস্তাব ইউরোপে বিভেদ সৃষ্টি করেছে। গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। ট্রাম্পের হুমকির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ অনেক মিত্রদেশ সতর্ক হয়েছে। গটলিশের মতে, বর্তমান হুমকি পরিস্থিতি আশির দশকের অলিম্পিক বয়কটের সময়ের তুলনায় আরও গুরুতর।
২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হবে ১১ জুন। এবার আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। বিশ্বকাপের টিকিটের দামও ইতোমধ্যেই চড়া হওয়ায় সমালোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে কিছু দেশের সমর্থকরাও যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারছেন না।

গটলিশ বলেন, “মূল্যবোধ রক্ষা করতে হবে। কিন্তু ডিএফবি সভাপতি বার্নড নয়েনডর্ফ এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সম্ভবত বিশ্বকাপ বয়কট নিয়ে প্রতিরোধ করবেন।” ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের উদাহরণ তিনি টেনেছেন, যেখানে জার্মানি প্রথমেই গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ে।
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “সংগঠন এবং সমাজ হিসেবে আমরা কীভাবে সীমা ঠিক করি এবং মূল্যবোধ রক্ষা করি, তা আমরা ভুলে যাচ্ছি। কেউ হুমকি দিলে কি সীমা লঙ্ঘন হয়? কেউ আক্রমণ করলে? মারা গেলে?” গটলিশ ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করেছেন, কখন তিনি এই সীমা অতিক্রম করেছেন।
তিনি আরো বলেন, “বিভিন্ন দেশ যদি বিশ্বকাপ বয়কট করে, সেন্ট পাউলির খেলোয়াড়রা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। একজন পেশাদার খেলোয়াড়ের জীবন কখনো অসংখ্য মানুষের জীবন থেকে বেশি মূল্যবান নয়, যারা আয়োজকের কারণে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে হুমকির মুখে পড়ছে।”

