প্রায় দেড় বছর ধরে বাংলাদেশ জাতীয় দলের জার্সিতে সাকিব আল হাসানকে দেখা যায়নি। রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে দীর্ঘ সময় তিনি দেশে আসতেও পারেননি। তবে সেই দীর্ঘ বিরতির অবসান ঘটতে পারে খুব শিগগিরই। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়েছে, জাতীয় দলের পরবর্তী সিরিজ থেকে সাকিব আল হাসানকে আবারও দলের জন্য বিবেচনা করা হবে।
গত শনিবার এক জরুরি বোর্ড সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান ও পরিচালক আমজাদ হোসেন। তিনি বলেন, বোর্ডের পক্ষ থেকে সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং সাকিবকে দেশের মাটিতে সম্মানজনকভাবে অবসর দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
এ সিদ্ধান্তের পর বিসিবি ও সাকিব আল হাসানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগও শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আমজাদ হোসেন বলেন, “জি, আলোচনা চলমান আছে।” অর্থাৎ বোর্ড ও সাকিবের মধ্যে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কথাবার্তা এখনো চলছে।
এর আগে শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে আমজাদ হোসেন বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, বোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছে—সাকিব আল হাসানের অ্যাভেইলিবিলিটি, ফিটনেস এবং এক্সেসিবিলিটি বিবেচনায় নিয়ে তাকে আবারও নির্বাচনের আওতায় আনা হবে। যেখানে খেলা হবে, সেখানে যদি তার উপস্থিত থাকা সম্ভব হয় এবং খেলার মতো শারীরিক সক্ষমতা থাকে, তাহলে বোর্ড বা নির্বাচক প্যানেল তাকে ভবিষ্যৎ সিরিজের জন্য বিবেচনা করবে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও বিসিবি সাকিবকে প্রয়োজন অনুযায়ী এনওসি দেবে, যাতে তিনি গ্লোবাল ক্রিকেটেও সক্রিয় থাকতে পারেন।
এদিকে বিসিবি সাকিব আল হাসানকে আবারও কেন্দ্রীয় চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাসংক্রান্ত ও আইনি বিষয়গুলো নিয়েও সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বোর্ড।
সাকিব আল হাসানের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে এরই মধ্যে ক্রিকেট অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর জাতীয় দলে তার ফেরার সম্ভাবনা যেমন মাঠের ক্রিকেটে প্রভাব ফেলবে, তেমনি এটি বাংলাদেশের ক্রিকেট রাজনীতিতেও নতুন বার্তা দিতে পারে—এমনটাই মনে করছেন অনেকেই।

