বাংলাদেশের সমর্থনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকি দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে পাকিস্তান। সবকিছু ঠিক থাকলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে আগামীকাল শুক্রবার অথবা সোমবার। তবে শুধু পুরো বিশ্বকাপ নয়, শেষ পর্যন্ত অংশ নিলেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ও সরকারের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা চলছে এবং সিদ্ধান্ত হতে পারে ১০ ফেব্রুয়ারি কিংবা তার পরদিন। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের প্রথম দুটি ম্যাচ ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এবং ১০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে।
ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, যদি কোনো অঘটন না ঘটে এবং পাকিস্তান প্রথম দুটি ম্যাচ জিতে সুপার এইট নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে তারা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বর্জনের পথে হাঁটতে পারে। সেই বহুল আলোচিত ম্যাচটি হওয়ার কথা রয়েছে ১৫ ফেব্রুয়ারি।
পাকিস্তান-ভারত ম্যাচ মানেই শুধু ক্রিকেট নয়—এটি সম্প্রচার, বিজ্ঞাপন ও স্পনসরশিপের দিক থেকে বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ইভেন্টগুলোর একটি। ফলে এই ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত শুধু মাঠের খেলায় নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আর্থিক কাঠামোতেও বড় ধাক্কা দিতে পারে।
এই প্রশ্নটি করা হয়েছিল পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘হাম নিউজ’-এর সিনিয়র সাংবাদিক মুজাম্মিল সোহরাওয়ার্দীকে। হোয়াটসঅ্যাপে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন,
‘পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের বড় অংশই মনে করে, দেশটি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে নাও খেলতে পারে। এমন সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।’
তার মতে, বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক নয়—এটি সরাসরি ক্রিকেটের অর্থনীতির সঙ্গেও জড়িয়ে আছে।
মুজাম্মিল সোহরাওয়ার্দীর হিসাব অনুযায়ী, পাকিস্তান-ভারত ম্যাচ থেকে সম্প্রচারকারীরা মোট আয়ের প্রায় ৬২ শতাংশ পেয়ে থাকে। এই একটি ম্যাচ বাতিল হলে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার ক্ষতির মুখে পড়তে পারে আইসিসি। যা বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থার জন্য হবে এক বড় আর্থিক ধাক্কা।
তবে প্রশ্ন উঠছে—বিশ্বকাপ না খেললে যে বিপুল রাজস্ব হারাবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি), তার দায় কে নেবে? হিসাব অনুযায়ী, এই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩১৬ কোটি রুপি।
এ বিষয়ে মুজাম্মিল সাফ জানিয়ে দেন,
‘এই অর্থ পাকিস্তান সরকার ক্ষতিপূরণ হিসেবে পিসিবিকে দিয়ে দেবে।’
অর্থাৎ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের আর্থিক বোঝা নিতে প্রস্তুত থাকছে সরকার—এমন ইঙ্গিতই মিলছে তার বক্তব্যে।
ওয়াসিম আকরামসহ পাকিস্তানের বেশিরভাগ সাবেক ক্রিকেটার বিশ্বকাপে খেলার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মুজাম্মিলের উত্তর ছিল বেশ কড়া ও সরাসরি—
‘ওরা তো ধারাভাষ্য দিয়ে টাকা পায়। তাই ওরা বলবেই খেলতে।’
এই মন্তব্যে পরিষ্কার, পাকিস্তানের ভেতরেই এ সিদ্ধান্ত নিয়ে একমত নয় সবাই। একদিকে জাতীয় অবস্থান ও রাজনৈতিক চাপ, অন্যদিকে ক্রিকেটীয় স্বার্থ ও আর্থিক বাস্তবতা—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে দাঁড়িয়ে আছে পাকিস্তান।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে—পাকিস্তান কি পুরো বিশ্বকাপ বর্জনের পথে হাঁটবে, নাকি শুধু ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে না। তবে যে সিদ্ধান্তই আসুক, সেটি শুধু একটি দলের অংশগ্রহণ নয়—বিশ্ব ক্রিকেটের রাজনীতি, অর্থনীতি ও কূটনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে, তা এখনই বলা যায়।

