পাকিস্তান–এর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযান এখন সংকটময় পর্যায়ে। সুপার এইটে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখতে আজ (বুধবার) নামিবিয়ার বিপক্ষে শেষ লিগ ম্যাচে জিততেই হবে। অন্য কোনো ফল মানেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে পাকিস্তান দাবি করেছিল, এশিয়া কাপে ভারতের কাছে হেরে যাওয়া দলের চেয়ে এবার তারা শক্তিশালী। কিন্তু রোববার আবারো ভারতের কাছে ৬১ রানে হেরে যায় তারা। ২০২২ ও ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ভারতের সঙ্গে লড়াই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হলেও শেষ পর্যন্ত জয় পায়নি পাকিস্তান। এতে বড় আসরে তাদের ধারাবাহিক ব্যর্থতা আবারও সামনে এসেছে।
দলের অভিজ্ঞ দুই ক্রিকেটার বাবর আজম ও শাহিন আফ্রিদিকে ঘিরে সমালোচনা তীব্র হয়েছে। শাহিন পাওয়ার প্লে ও ডেথ ওভারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন; সাম্প্রতিক ম্যাচে দুই ওভারে ৩১ রান দিয়ে নিয়েছেন একটি উইকেট। অন্যদিকে স্পিনের বিপক্ষে বাবরের দুর্বলতা স্পষ্ট— টি-টোয়েন্টি দলে ফেরার পর স্পিনের বিপক্ষে তার স্ট্রাইক রেট ১০১ দশমিক ৭০, যা মিডল অর্ডারের ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
দল নির্বাচনে দ্বিধাও স্পষ্ট। পরিবর্তনের পথে গেলে সালমান মির্জা ও ফখর জামান বিবেচনায় থাকতে পারেন। তিন ম্যাচেই পাকিস্তান স্পিনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করেছে— যথাক্রমে ১৩, ১৬ ও ১৮ ওভার স্পিনারদের দিয়ে বল করানো হয়েছে। এতে বোঝা যায়, সঠিক সমন্বয় এখনও খুঁজে পায়নি দলটি।
অন্যদিকে নামিবিয়া আগেই বিদায় নিশ্চিত করলেও ম্যাচটিকে হালকাভাবে নিচ্ছে না। ২০২৭ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হওয়ার অনুপ্রেরণায় তারা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে চায়।
পাকিস্তানের সামনে সমীকরণ একটাই— জিতলে টিকে থাকা, হারলে বিদায়। সহযোগী দেশের বিপক্ষে চাপে পড়ে তারা হোঁচট খায় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

