বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে ভারত। ঠিক এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের স্কোয়াডে থাকা রিংকু সিংয়ের জীবনে নেমে এলো গভীর শোক। তার বাবা খানচাদ সিং আর নেই।
আজ শুক্রবার ভোরে গ্রেটার নয়ডার যথার্থ হাসপাতাল এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. সুনীল কুমার জানিয়েছেন, খানচাদ সিং লিভার ক্যানসারে ভুগছিলেন। গত কয়েক দিনে তার শারীরিক অবস্থা আরও অবনতি ঘটে। ২১ ফেব্রুয়ারি তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং অবস্থার অবনতি হওয়ায় ভেন্টিলেটরে রাখা হয়।
অবশেষে শুক্রবার ভোরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
রিংকুর সাবেক কোচ মাসুদ আমিনি আলিগড়ে পিটিআইকে বলেন, “তিনি অনেক দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। শেষ তিন থেকে চার দিন ভেন্টিলেটরে ছিলেন।”
বাবার অসুস্থতার খবর পেয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালীন মাঝপথে ঘরে ফিরতে হয়েছিল রিংকুকে। তিনি নয়ডায় গিয়ে বাবার সঙ্গে দেখা করেন। পরে ২৬ ফেব্রুয়ারি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আবার দলের সঙ্গে যোগ দেন।
এখন বাবার মৃত্যুসংবাদে আবারও তাকে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হবে।
২৮ বছর বয়সী রিংকু সিং উত্তর প্রদেশের আলিগড় জেলার বাসিন্দা। ক্রিকেটে নিজের সাফল্যের পেছনে বাবার অবদানের কথা তিনি বহুবার স্বীকার করেছেন।
খানচাদ সিং আলিগড়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিতরণের কাজ করতেন। পরিবার চালাতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। আর্থিক কষ্ট থাকলেও ছেলের ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নকে থামিয়ে দেননি। বরং সব বাধা পেরিয়ে ছেলেকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছেন।
মাসুদ আমিনি বলেন, “পরিবারের জন্য তিনি খুব কষ্ট করেছেন। গ্যাস সিলিন্ডার ডেলিভারি দিয়ে শুরু করেছিলেন। ছেলের স্বপ্ন পূরণে সবসময় পাশে ছিলেন।”
পরিবার জানিয়েছে, খানচাদ সিংয়ের শেষকৃত্য আলিগড়েই সম্পন্ন হবে। সেখানে রিংকু সিং উপস্থিত থাকবেন।
বিশ্বকাপের উত্তেজনার মাঝেই রিংকুর জীবনে নেমে এসেছে ব্যক্তিগত শোকের ছায়া। মাঠে ভারতের হয়ে লড়াই করা এই ক্রিকেটারের জীবনে বাবার অনুপ্রেরণাই ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি। এখন সেই শক্তির উৎসই চিরবিদায় নিলেন।

