শুনতে অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রধান আসর—ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ—এ বছর মাঠে গড়াচ্ছে না। একসময় জাতীয় লিগ ও বিসিএলকে প্রধান আসর হিসেবে বিবেচনা করা হতো, কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটে এগুলো এখন প্রধান ভূমিকা পালন করছে না।
বিপিএল থাকলেও সেটি প্রধান ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটের প্রতিস্পর্ধা নয়। ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার আইপিএল বা বিগ ব্যাশের মতো টুর্নামেন্টের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের ঘরোয়া কাঠামো এখনও শক্তিশালী নয়।
বিপিএল মাঠে জমকালো, বিদেশি খেলোয়াড় থাকে, ব্যানার-ফ্যানফেয়ার থাকে। কিন্তু গুরুত্ব, কার্যকারিতা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আকর্ষণ—সব দিক বিবেচনা করলে প্রিমিয়ার লিগই মূল আসর। কারণ ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটের কাঠামো এখনো বাংলাদেশে পূর্ণ হয়নি। বিপিএল বা জাতীয় লিগ খেলেও খেলোয়াড়রা যে অর্থ পান, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি আয় হয় প্রিমিয়ার লিগে।
বাংলাদেশের শীর্ষ ২০০-২৫০ ক্রিকেটারের মধ্যে প্রায় ২৫-৩০ জন জাতীয় দলে খেলেন। কেউ বিসিবি থেকে বেতন পান। জাতীয় দলে খেলে ম্যাচ ফি ও বোনাস মিলিয়ে তাদের আয় ভালো। প্রিমিয়ার লিগে অন্তত ১৫০ ক্রিকেটারের জীবন চালানোর অর্থ জড়িত। বছরের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত এই লিগ মাঠে গড়ে, যেখানে ক্রিকেটাররা পছন্দের দল বেছে খেলেন। গড়পড়তা ৭৫–৮০ শতাংশ পেমেন্ট পেলেও প্রায় ১০০ ক্রিকেটারের সংসার চলে। কিন্তু এ বছর মার্চের ৭ তারিখ, এখনও কোনো খবর নেই।
প্রিমিয়ার লিগ আয়োজনের দায়িত্বে থাকা সিসিডিএম কর্তারা এখন অসহায়। কারণ বিসিবির নির্বাচনে অস্বচ্ছতা, বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূইয়ার ওপর হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে ঢাকার ৮০ ভাগ ক্লাব নির্বাচন বয়কট করেছে। তৃতীয় বিভাগ লিগ না হওয়ায় এই বোর্ডের অধীনে প্রিমিয়ার লিগ আয়োজন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
২–৩টি ক্লাব ছাড়া বাকি ক্লাব এই বোর্ডের অধীনে লিগ খেলতে রাজি নয়। মোহামেডান, আবাহনীসহ বড় ক্লাবগুলো স্পষ্টভাবে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সিসিডিএম চেষ্টা করেছে, কিন্তু আশানুরূপ সাড়া পায়নি।
বিসিবি তাদের অর্থায়নে তিন দলের এক অদম্য টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে। এতে ৪৫ জন খেলোয়াড় কিছুটা অর্থ পেয়েছেন। কিন্তু প্রিমিয়ার লিগ না হলে শতাধিক ক্রিকেটারের আয় না হওয়ায় সেখানকার মূল অংশরা ক্ষতিগ্রস্ত।
প্রশ্ন হচ্ছে, বিসিবি সভাপতি কি প্রিমিয়ার লিগ আয়োজন নিয়ে উৎসাহী? সংশ্লিষ্টদের মতে—না। ঢাকার সিংহভাগ ক্লাব ভোট না দেওয়ায় সিসিডিএম-এর কাছে কোনো সহযোগিতা নেই। বোর্ড সভাপতির অনাগ্রহ ও দেশের বাইরে থাকা—সব মিলিয়ে প্রিমিয়ার লিগ স্থগিত হয়ে গেছে।
যদিও শীর্ষ ক্রিকেটাররা রোজার মাসে মাঠে নেমে খেলার প্রস্তুতি রাখেন, তবু বিসিবি কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ক্লাবগুলোর রাজি করার কোনো চেষ্টা হয়নি। বোর্ড প্রধান দেশে না থাকায় সিসিডিএমও একেবারেই অসহায়।
ফলে, প্রিমিয়ার লিগ আয়োজন এবার অনিশ্চিত। ক্লাবগুলো রাজি না হওয়া, বোর্ডের উদাসীনতা—সব মিলিয়ে বাংলাদেশে প্রধান ঘরোয়া ক্রিকেট আসরের অবস্থা সংকটাপন্ন। ইতিহাসে এটিকে বড় ব্যর্থতা হিসেবে মনে করা হবে। নারী বিভাগীয় ক্রিকেট হোক বা শীর্ষ ক্রিকেটারদের অদম্য টুর্নামেন্ট—প্রিমিয়ার লিগ করতে না পারা হবে সবচেয়ে বড় দলিল।

