ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফিনালিসিমা ম্যাচের ভেন্যু নির্ধারণের সিদ্ধান্ত আবারও পিছিয়ে গেছে। উয়েফা এবং কনমেবল জানিয়েছে, এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে তারা শনিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করবে।
শুক্রবার অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া অংশ নেন। আর্জেন্টিনার গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে তাপিয়া এবং কনমেবল সভাপতি আলেহান্দ্রো দোমিনগেজ ম্যাচ আয়োজনের জন্য ইউরোপের কয়েকটি বিকল্প ভেন্যুর প্রস্তাব দেন। আলোচনায় উঠে আসে পর্তুগাল, ইংল্যান্ড এবং ইতালির নাম।
দুই কনফেডারেশনের প্রতিনিধিরা শনিবার আবার বৈঠকে বসবেন বলে জানা গেছে। সেখানেই ফিনালিসিমা আয়োজনের সম্ভাব্য ভেন্যু নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।
মূলত এই ম্যাচটি আগামী ২৭ মার্চ কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর ইরানের পাল্টা আঘাতে অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থির হয়ে ওঠে, যার প্রভাব পড়ে কাতারেও।
পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে কাতার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন নিরাপত্তাজনিত কারণে দেশের সব টুর্নামেন্ট ও প্রতিযোগিতা পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও স্পেন ও আর্জেন্টিনার ফিনালিসিমা ম্যাচ নিয়ে তারা সরাসরি কোনো ঘোষণা দেয়নি।
এদিকে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া আগে জানিয়েছেন, প্রয়োজনে ম্যাচটি আর্জেন্টিনায় আয়োজনের পক্ষেও তিনি আগ্রহী। রিয়াল মাদ্রিদের স্টেডিয়ামকে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে আলোচনায় আনার পরই তিনি এই মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে স্পেনীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রাফায়েল লুজান দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন। গত সোমবার তিনি বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ফিনালিসিমার ভেন্যু নিয়ে সিদ্ধান্ত হওয়া দরকার, কারণ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য এই ম্যাচ দুটি দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।
একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন লুজান। তিনি বলেন, কাতার, সৌদি আরব এবং আশপাশের দেশগুলো বর্তমানে যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তা গভীরভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। গত কয়েক দিন ধরে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে ফুটবলের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটির ভেন্যু নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। তবে শনিবারের বৈঠকের পর বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

