দেশজুড়ে আবারও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে নিপাহ ভাইরাস। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৫ জেলায় ইতোমধ্যে এই মারাত্মক ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। শুধু গত বছর ২০২৫ সালে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রত্যেকের শরীরেই পরীক্ষার মাধ্যমে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছিল। সর্বশেষ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন রোগীর মৃত্যু হয়।
রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে দেশে নিপাহ ভাইরাসে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। ওই বছর আক্রান্তও হন মোট পাঁচজন।
আজ বুধবার আইইডিসিআরের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ও ঝুঁকি বিষয়ে মতবিনিময়’ শীর্ষক সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আইইডিসিআরের পরিচালক তাহমিনা শিরীন।
সভায় আইইডিসিআরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর শীত মৌসুম এলেই নিপাহ ভাইরাসের প্রকোপ দেখা যায়। এটি অত্যন্ত প্রাণঘাতী একটি ভাইরাস। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রায় ৭২ শতাংশ রোগীর মৃত্যু ঘটে, যা পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তোলে।
শারমিন সুলতানা জানান, দেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো কাঁচা খেজুরের রস পান। এছাড়া প্রায় ২৮ শতাংশ ক্ষেত্রে একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে অন্যজনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—নিপাহ ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর কোনো চিকিৎসা বা টিকা আবিষ্কৃত হয়নি, যা রোগ নিয়ন্ত্রণকে আরও কঠিন করে তুলছে।
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)-এর সংক্রামক রোগ বিভাগের সহযোগী বিজ্ঞানী ও নিপাহ ভাইরাস জরিপ সমন্বয়কারী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার জানান, সংক্রমণ ও মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা গেছে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাট জেলায়।
তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় বক্তারা নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাঁচা খেজুরের রস পান না করা, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতেই প্রতিবছরের মতো এবারও এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নাজমুল হোসেন।
নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়
-
কাঁচা খেজুরের রস পান করবেন না
-
আংশিক খাওয়া বা পোকায় কাটা ফল খাবেন না
-
ফলমূল পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে খান
-
নিপাহ রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যান
-
আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এলে সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন

