অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সিইও মো. কাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর একজন উপসহকারী পরিচালককে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চেয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কাজিম উদ্দিনকে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সিইও হিসেবে নিয়োগ দেয়ার জন্য ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছে আবেদন করা হয়। এরপর ২০২০ সালের ১ নভেম্বর থেকে পরবর্তী তিন বছরের জন্য তার নিয়োগ অনুমোদন করা হয়। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর একই শিক্ষাগত সনদ দিয়ে নিয়োগ পুনঃনবায়ন করা হয়।
কাজিম উদ্দিনের শিক্ষাজীবন এবং পেশাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তিনি ১৯৮৪ সালে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার কাকৈরতলা উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৮৬ সালে নবাব ফয়জুন্নেসা সরকারি মহাবিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন।
দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৮ সালে ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লা’ থেকে বিবিএ এবং ২০১৯ সালে এমবিএ পাস করেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ২০০৬ সালে এই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছিল। ১৯৯৫ সালে অনুমোদন পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধের বিষয়টি আদালতে গেলে বর্তমানে তা স্থগিত রয়েছে।
ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সিইও কাজিম উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল এবং হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

