মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাঙ্কারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুদ্ধজাহাজ না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপান। দেশটির সরকার বলছে, বর্তমান আইনি কাঠামো এবং সংবিধানগত সীমাবদ্ধতার কারণে সরাসরি সামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করা তাদের জন্য সহজ নয়।
জাপানের ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) নীতি নির্ধারণী প্রধান তাকায়ুকি কোবায়াশি এই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে আইনি সীমাবদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, জাপানের বর্তমান আইন অনুযায়ী বিদেশের সংঘাতপূর্ণ এলাকায় নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠানোর শর্ত অত্যন্ত কঠোর এবং এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জাপানসহ বিভিন্ন দেশকে তাদের নিজস্ব তেলবাহী ট্যাঙ্কারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তার এই আহ্বানের পরই টোকিওর পক্ষ থেকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়।
আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কোবায়াশি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে নৌবাহিনী পাঠানো জাপানের জন্য অত্যন্ত কঠিন একটি সিদ্ধান্ত। যদিও আইনিভাবে সম্ভাবনাটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি, তবে আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
জাপানের শান্তিবাদী সংবিধান এবং সামরিক সীমাবদ্ধতা এই সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রণীত সংবিধান অনুযায়ী জাপানের সামরিক বাহিনী মূলত আত্মরক্ষামূলক ভূমিকায় সীমাবদ্ধ। ফলে সরাসরি সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করা রাজনৈতিক ও আইনি উভয় দিক থেকেই জটিল হয়ে ওঠে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় অনেক দেশ সামরিক উপস্থিতি জোরদার করতে চাইছে। তবে জাপান আপাতত সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণের বদলে সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রাখার পথই বেছে নিয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হয়। ফলে এই জলপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থির হয়ে উঠলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

