দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া চলাকালীন জাপান সাগরের দিকে একযোগে ১০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। শনিবার (১৪ মার্চ) পিয়ংইয়ংয়ের কাছাকাছি সুনান এলাকা থেকে এই উৎক্ষেপণ করা হয়েছে বলে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের প্রতিরক্ষা সূত্র নিশ্চিত করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শুরু হয়। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে এবং সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছায়।
জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো জাপানের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইইজেড)-এর বাইরে সাগরে পতিত হয়েছে। এতে কোনো জাহাজ বা বিমানের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উৎক্ষেপণ দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান ১১ দিনব্যাপী ‘ফ্রিডম শিল্ড’ সামরিক মহড়ার সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। পিয়ংইয়ং দীর্ঘদিন ধরেই এই ধরনের যৌথ মহড়াকে নিজেদের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের প্রস্তুতি বলে অভিযোগ করে আসছে।
উৎক্ষেপণের আগে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং সতর্ক করে বলেছিলেন, এই মহড়া অব্যাহত থাকলে সিউল ও ওয়াশিংটনকে “অকল্পনীয় ভয়াবহ পরিণতি” ভোগ করতে হবে।
এদিকে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, নেতা কিম জং উন নিজে তার কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে এই পরীক্ষণ পর্যবেক্ষণ করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষায় ১২টি আল্ট্রা-প্রিসিশন রকেট লঞ্চার সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে।
কিম জং উন এই পরীক্ষাকে শত্রুপক্ষকে ট্যাকটিক্যাল পারমাণবিক অস্ত্রের ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা সম্পর্কে সতর্কবার্তা দেওয়ার একটি উপায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে ব্যস্ত থাকার সময়েই উত্তর কোরিয়ার এই বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এশিয়া অঞ্চলে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

