ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে, তবে বিশ্বের অন্য সব দেশের জাহাজের জন্য এটি উন্মুক্ত রয়েছে।
শনিবার মার্কিন ক্যাবল নিউজ চ্যানেল এমএস নাউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অন্য দেশের জাহাজগুলোর ক্ষেত্রে প্রণালি পার হওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই।
তবে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে অনেক দেশ এখনো প্রণালিটি ব্যবহার করছে না বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে আরাকচি বলেন, “এ বিষয়ে ইরানের কিছু করার নেই।”
তিনি আরও জানান, বর্তমানে অনেক তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে বলেছেন, ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি দেশকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্দেশ্য হলো প্রণালিটিকে উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই পোস্টে ট্রাম্প সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যের নাম উল্লেখ করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব দেশও প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে পারে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি আহত হয়েছেন এবং সম্ভবত অক্ষম হয়ে পড়েছেন।
এই বক্তব্যের জবাবে আরাকচি বলেন, “সর্বোচ্চ নেতার কোনো সমস্যা নেই। তিনি গতকালই তার বার্তা দিয়েছেন এবং সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থা সুপ্রতিষ্ঠিত এবং এটি কোনো একক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়। কোনো ব্যক্তিকে হারালেও সেই শূন্যস্থান রাষ্ট্রীয় কাঠামো পূরণ করে নিতে সক্ষম।
আরাকচির ভাষায়, “সবকিছু নিয়ন্ত্রণে আছে।”
শনিবার পরে ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, তিনি শুনেছেন যে মুজতবা খামেনি সম্ভবত জীবিত নেই। মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “তবে যদি তিনি জীবিত থাকেন, তাহলে তার দেশের জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে আত্মসমর্পণ করা।”
আরাকচি জেনিভায় অনুষ্ঠিত সর্বশেষ আলোচনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। সেখানে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার-এর সঙ্গে বৈঠকে তিনি ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে যে মন্তব্য করেছিলেন তা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, আলোচনায় তিনি কেবল ইরানের ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ৪৪০ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়ামের সম্ভাব্যতা নিয়ে কথা বলেছিলেন, যা তাত্ত্বিকভাবে প্রায় ১০টি বোমা তৈরির জন্য যথেষ্ট হতে পারে। তার উদ্দেশ্য ছিল ইরান কতটা ছাড় দিতে প্রস্তুত, তা বোঝানো।
আরাকচির দাবি, মার্কিন প্রতিনিধিরা হয়তো বিষয়টি ভুল বুঝেছেন। এর কারণ হতে পারে তাদের পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাব অথবা আগ্রাসনকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে আলোচনায় প্রকৃতপক্ষে কী কথা হয়েছিল তা একদিন প্রকাশ পাবে।

